ফুটবল এমন একটি মঞ্চ, যেখানে গোটা দুনিয়ার মানুষের শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে। আর সেই মঞ্চে যে দলগুলো অংশ নেয়, তার প্রায় প্রতিটি দলেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ডাকনাম। যা সেই দেশগুলোর শেকড়ের ও তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জানান দেয়। সাধারণত এই ডাকনামগুলোর পেছনে থাকে বিশেষ কোনও গল্প। যা ভক্ত-সমর্থকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পায়।
জেনে নেওয়া যাক, ফুটবল বিশ্বের কিছু নামকরা দলের ডাকনামের অর্থ ও এর পেছনের গল্প।
আর্জেন্টিনা (লা আলবিসেলেস্তে)
বিজ্ঞাপন
কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দেশ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার জার্সির ডোরা কাটা দাগ ও পতাকার রং আকাশি নীল ও সাদা। সেই পতাকার মাঝে উদিত সূর্য। স্প্যানিশ ভাষায় উদিত সূর্য অর্থ ‘আলবা ই সেলেস্তে’। সেই নামেই তারা লা আলবিসেলেস্তে নামে পরিচিত।
ব্রাজিল (সেলেসাও)
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের মোট ৪টি ডাকনাম আছে। তবে তারা তাদেরকে সেলেসাও নামেই পরিচয় দেয়। পর্তুগিজ ভাষায় সেলেসাও অর্থ নির্বাচিত খেলোয়াড়। ব্রাজিলিয়ানরা প্রতিটি ফুটবল দলকে ডাকে সেলেসাও নামে। তবে জাতীয় দলটি স্বতন্ত্র এবং দ্য সেলেসাও নামে পরিচিত।
ফ্রান্স (লেস ব্লুজ)
ফরাসি দলটি তাদের জার্সির নীল রঙের কারণে লেস ব্লুস নামে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- সৌদিতে ‘নিষিদ্ধ কাজ’, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন রোনালদো
ইতালি (স্কোয়াড্রা আজজুরা)
রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না পারা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশ ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের ডাকনাম স্কোয়াড্রা আজজুরা। ১৯১১ সালের জানুয়ারি মাসে তারা হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলো। সেই সময়কার ইতালির রাজা ‘দ্বিতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলের’ প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা নীল রঙের জার্সিকে বেছে নিয়েছিল। সেই থেকে ইতালিয়ানরা নীল জার্সিকে তাদের অফিশিয়াল জার্সি হিসেবে গণ্য করে। রাজপরিবারের সম্মানে নীল জার্সি পরিধান করায় ইতালির রাজদরবার ‘হাউজ অফ সেভয়’ থেকে সেদিন তাদের ডাকনাম দেওয়া হয় ‘স্কোয়াড্রা আজজুরা’।
সৌদি আরব (আল আখদার)
এইবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে হুট করেই নেটিজনদের নজরে আসা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ডাকনাম রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হল আল-আখদার, যার অর্থ ‘দ্য গ্রিনস’। দলটি সুকুর আল-আখদার নামেও পরিচিত যার অর্থ দাঁড়ায় ‘দ্য গ্রিন ফ্যালকনস’। তৃতীয় ডাকনাম- আস-সুকুর আল-আরাবিয়্যাহ বা অ্যারাবিয়ান ফ্যালকনস।

জাপান (সামুরাই ব্লু)
জাপানি দলটিকে তাদের ঐতিহাসিক সামুরাই পটভূমি সামুরাই ব্লুতে সারা বিশ্বে পরিচিতি দিয়েছে।
মরক্কো (দ্য অ্যাটলাস লায়ন্স)
কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসর জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত দল মরক্কো। তারা মোট ছয়বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে এইবার চতুর্থস্থান দখল করে নেয়। মরক্কোকে তাদের জাতীয় পশু বারবারি সিংহের নামানুসারে দ্য অ্যাটলাস লায়ন্স নামে ডাকা হয়। উল্লেখ্য, বারবারি সিংহকেও অ্যাটলাস সিংহ বলা হত। প্রাণীটি এখন বিলুপ্ত হলেও এক সময় মরক্কোতে পাওয়া যেত।
অস্ট্রেলিয়া (সকারুজ)
সকারুজ শব্দটি এনেছিলেন সিডনি-ভিত্তিক সাংবাদিক টনি হর্স্টেড। তিনি মূলত অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক ক্যাঙ্গারুদের হাইলাইট করতে চেয়েছিলেন। সকার (ফুটবল) ও ক্যাঙ্গারু শব্দগুলো একসঙ্গে সকারুজ হিসাবে একটি আলাদা শব্দে ব্যবহার করা হয়েছে এখানে।
ইরান (টিম মেল্লি)
ফার্সি ভাষায় টিম মেল্লি এর অর্থ জাতীয় দল। এছাড়া ইরান ফুটবল দলের আরও কয়েকটি ডাকনাম রয়েছে যেমন শিরান-ই-ইরান যার অর্থ ‘ইরানি সিংহ’। শিরদেলান যার অর্থ সিংহের হৃদয় ও পারস্যের রাজপুত্র ইত্যাদি।
মেক্সিকো (এল ট্রাই)
মেক্সিকো ফুটবল জাতীয় দল ‘এল ট্রাই’ নামে পরিচিত। এর অর্থ ত্রিবর্ণ। এটি তাদের জাতীয় পতাকার তিনটি রঙের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
দক্ষিণ কোরিয়া (তাইগেউক ওয়ারিয়র্স)
ভক্তরা প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া দলটিকে দ্য রেডস নামে ডাকে, যা দলটির প্রধান জার্সির রঙ। তবে তারা তাইগেউক ওয়ারিয়র্স ও এশিয়ার সিংহ নামেও পরিচিত। তাইগেউক দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা থেকে পাওয়া প্রতীক।

কানাডা (দ্য রেডস)
কানাডিয়ান ফুটবল দলের ডাকনাম দ্য রেডস, যা তাদের হোম কিটের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া দলটি তাদের দেশের পতাকায় থাকা ম্যাপেল পাতার দল নামেও পরিচিত। উল্লেখ্য, কানাডার পতাকার মধ্যে একটি ম্যাপেল পাতার চিত্র রয়েছে।
আরও পড়ুন- আবারও মেসির কাছে শোচনীয় হার এমবাপের
উরুগুয়ে (লা সেলেস্তে)
উরুগুয়ের ডাকনাম লা সেলেস্তে যার অর্থ স্কাই ব্লু, এটি তাদের জার্সির রংকে স্মরণ করে।
বেলজিয়াম (ডাই রোটেন টিউফেল)
বেলজিয়ান স্কোয়াড ডাই রোটেন টিউফেল নামে পরিচিত। যার অর্থ দ্য রেড ডেভিলস। নামটি ১৯০৬ সালে তাদের জার্সির রঙ দ্বারা অনুপ্রাণিত সাবেক ম্যানেজার পিয়েরে ওয়ালকিয়ার রেখেছিলেন।
ইংল্যান্ড (থ্রি লায়নস)
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগোতে তিনটি সিংহের প্রতীক রয়েছে, যে কারণে ইংলিশ দলটি থ্রি লায়নস নামে পরিচিত।
জার্মানি (ন্যাশনালেফ)
জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলকে বলা হয় ন্যাশনালেফ। যার অর্থ জাতীয় একাদশ। তারা ডিএফবি ইলেভেন নামেও পরিচিত। এছাড়া চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ডাই ম্যানশ্যাফ্ট নামেও ডাকা হয়।

নেদারল্যান্ডস (অরেঞ্জ)
নেদারল্যান্ডস দলটি তাদের কিটের রঙ ও দেশটির ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কেএনভিবি এর লোগোর সঙ্গে মিল রেখে অরেঞ্জ নামে পরিচিত।
পর্তুগাল (ওস নেভেগাডোরস)
পর্তুগালের বিখ্যাত নাবিকদের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তারা নতুন দেশের সন্ধানে সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন। তাই জাতীয় দলটি ওস নেভেগাডোরস নামে পরিচিত, যার অর্থ নেভিগেটরস।
সার্বিয়া (ওরলোভি)
বরফের দেশের এই দলটি অরলোভি নামে পরিচিত যার অর্থ হল দ্য ঈগলস। সার্বিয়ার জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত সাদা দুই মাথার ঈগল।
আরও পড়ুন- বন্ধু মেসির পরামর্শেই ব্রাজিলিয়ান ক্লাবে সুয়ারেজ
স্পেন (লা রোজা)
স্প্যানিশ জাতীয় দল লা রোজা নামে পরিচিত যার অর্থ দ্য রেড ওয়ান। তারা লা ফুরিয়া রোজা নামেও পরিচিত যার অর্থ লাল ফিউরি বা ক্রোধ।
সুইজারল্যান্ড (রসসোক্রসিয়াতি)
সুইস ফুটবল দল রসসোক্রসিয়াতি নামে পরিচিত যার অর্থ রেড ক্রস। তারা নাতি নামেও পরিচিত, যার অর্থ সুইসের জাতীয় দল।
আমেরিকা (স্টার স্ট্রাইপস)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাকনাম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস। এটি তাদের জাতীয় পতাকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের ডোরাকাটা লোগোর অনুকরণে এসেছে। দলটি দ্য ইয়াঙ্কস নামেও পরিচিত।
এসসিএন/এফএইচ




