ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিদায় হয়েছে আগেই। তিন দলের লড়াইয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল আফগানিস্তান। শারজাহতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে তারা। হাতে ছিল ৯৩ বল। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন হলো আফগানরা।
জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল আফগানিস্তান। রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটে আসে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৩১ বলে ৩৬ রান করে গুরবাজ ফিরে গেলে ভাঙে এই জুটি। এরপর সেদিকুল্লাহ অটলও বেশি সময় টিকতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ রান। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দুই ব্যাটারকেই ফেরান জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার নেমান নিয়ামহুরি।
তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি জাদরান ও রহমত শাহ। দুজনের ব্যাটে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় দল। জয় থেকে যখন মাত্র ৮ রান দূরে আফগানিস্তান, তখন ৪৩ রান করে আউট হন রহমত। তবে তাতে জয়ে বাধা পড়েনি। ৭০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন জাদরান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগান বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৪৩.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে দলটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৯ রান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তিনিই করেন দলের সর্বোচ্চ ৬৮ রান।
ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৬ রানেই তিন ব্যাটারকে হারায় দলটি। তাদিনওয়াশে মারুমানি ১২, ব্রায়ান বেনেট ৯ ও তাফাদজওয়া সিগা ৪ রান করে বিদায় নেন।
এরপর সিকান্দার রাজার সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়লেও রানআউট হয়ে ফিরে যান ব্রেন্ডন টেলর। তার সংগ্রহ মাত্র ৭ রান। পরে রায়ান বার্লকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন রাজা। দুজনের জুটিতে আসে ৫০ রান। এর মধ্যেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। কিন্তু ৩১ রান করা বার্লের বিদায়ে ভাঙে জুটি। তখন দলের রান ১১৫, উইকেট পড়েছে পাঁচটি।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ওয়েসলি মাধেভেরে ৩, ব্র্যাড ইভান্স ১ এবং নিউম্যান নিয়ামহুরি কোনো রান না করেই আউট হন। একপ্রান্ত আগলে রাখা রাজাও শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে থামেন ৬৮ রানে। তার বিদায়ে ১৩৭ রানে নবম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
শেষ উইকেটে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৩২ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ান। তবে ৮ রান করে ওয়েলিংটন আউট হলে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন মুজারাবানি।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনটি উইকেট নেন তিনি। ফজলহক ফারুকি, মোহাম্মদ নবি ও বিলাল সামি দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
ফাইনালে দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে সিরিজজুড়ে নিজেদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছে আফগানিস্তান। কোনো ম্যাচ না হেরেই শিরোপা জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করল দলটি।
এসআই




