মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে কদিন ধরেই উত্তাল ক্রিকেটাঙ্গণ। বাংলাদেশি পেসারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানায় বিসিবি। বিশ্বকাপে টাইগারদের ম্যাচের ভেন্যু বদলের আবেদনও করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে দিন যত এগোচ্ছে অনিশ্চয়তা ততই বাড়ছে। আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের চিঠিতে তাই জানা গেছে।
মুস্তাফিজ দলে থাকলে এবং দর্শকরা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেললে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে বলেই আইসিসির চিঠিতে জানানো হয়েছে। এ কারণে মুস্তাফিজকে বাদ দিয়ে দল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- ৯ কোটি ২০ লাখে বিক্রির পর চুক্তি বাতিল, মুস্তাফিজ এখন কত পাবেন?
আরও পড়ুন- আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ বাংলাদেশে, ভারতের যে প্রতিক্রিয়া
আজ বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, চিঠিতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে তিনটি কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যার একটি, বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা।
ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, আইসিসির সিকিউরিটি টিম তাদের চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে। তিনি বলেন, ‘চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মুস্তাফিজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।’
বিজ্ঞাপন
আইসিসির এমন বক্তব্যকে ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে দল গড়ব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে এখন যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা অব্যাহত ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষিতে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোস্তাফিজের ইস্যু এবং আইসিসির এই চিঠির মাধ্যমে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’
বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটের ওপর কারও মনোপলি থাকা উচিত না। আইসিসি যদি সত্যিই গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয় এবং ভারতের কথায় ওঠবস না করে, তবে অবশ্যই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই প্রশ্নে আমরা কোনো রকম নতি স্বীকার করব না।’
পাকিস্তানে গিয়ে খেলতেও বাংলাদেশের আপত্তি জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পত্রিকায় দেখলাম, আমি জানি না সত্যি নাকি মিথ্যা, পাকিস্তান নাকি আমাদের টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানে করেন কোনো সমস্যা নাই, সংযুক্ত আরব আমিরাতে করেন কোনো সমস্যা নাই।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারের খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড—ন্যাশনাল একটা অথরিটি, তারা যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে, বুঝলাম না। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই। ভারতের কোনো জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।’

