বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ, কতটা ক্ষতি হবে ভারতের?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ, কতটা ক্ষতি হবে ভারতের?

দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব আরও একবার পড়ল মাঠে। এবার ভারতের রাজনৈতিক রোষের শিকার বাংলাদেশ। ফলে আইপিএলে খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে কিনলেও ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে জনপ্রিয় এ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজ। এদিকে টাইগার পেসারকে বাদ দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত ও বিসিসিআই। 

শুধু তাই নয়, সমালোচনার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিসিসিআইকে। মুস্তাফিজকে খেলতে না দেওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ। ফলে টাইগারদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বিসিসিআইকে। 


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন- ‘আশা করি মুস্তাফিজের মতো মাশরাফিকেও বাদ দেবে ভারত’

আরও পড়ুন- আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ বাংলাদেশে, ভারতের যে প্রতিক্রিয়া

আবার একই কারণে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই আইপিএল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার পর, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের গায়ে আদৌ কি কোনও আর্থিক ক্ষতির আঁচ পড়বে কি না তা জানতে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে শুরু হয়েছে হসাব-নিকাশ। প্রশ্ন হল, বাংলাদেশে যদি আইপিএল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কতখানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে তার আগে আইপিএল টুর্নামেন্টে অর্থ উপার্জনের গোটা প্রক্রিয়াটা বুঝতে হবে। 

আইপিএল টুর্নামেন্ট থেকে বিসিসিআই যে অর্থ উপার্জন করে, তার সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। টিভি এবং ডিজিটাল মিডিয়া স্বত্ত্ব, টাইটেল স্পনসর, টিম স্পনসর এবং বিজ্ঞাপন থেকেই আসে সবথেকে বেশি টাকা। বাংলাদেশেও আইপিএল টুর্নামেন্টের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। সমর্থকদের একটি বড় অংশ আইপিএল টুর্নামেন্ট উপভোগ করেন। 


বিজ্ঞাপন


২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই আইপিএল টুর্নামেন্টের মিডিয়া রাইটস প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় বিক্রি করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। গতবারের মিডিয়া রাইটসের তুলনায় এই অঙ্কটা প্রায় দ্বিগুণ। এই উপার্জনের সিংহভাগটাই আসে ভারত থেকে। এই দেশে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল দুটো প্ল্যাটফর্মেই ভিউয়ারশিপ যথেষ্ট বেশি। আইপিএল থেকে BCCI-এর উপার্জন মোট তিনটে অংশে বিভক্ত -

প্রথমত, এই উপার্জনের প্রধান উৎস মিডিয়া রাইটস। এরমধ্যে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বজোড়া স্পনসরশিপ। এই টুর্নামেন্টে টাটার মতো বড় ব্র্যান্ড টাইটেল স্পনসর করার জন্য কোটি-কোটি টাকা দেয়।তৃতীয়ত, টিকিট বিক্রি এবং ফ্যান এনগেজমেন্ট। ভারতীয় এবং বিদেশি দর্শক এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে মাঠে আসেন।

বিদেশ থেকে আইপিএল টুর্নামেন্ট কত টাকা উপার্জন করে তা খুব বেশি নয় বলেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে। বিদেশি বাজার থেকে যে টাকা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পায়, মোট উপার্জনের তুলনায় তা বেশ সামান্য। ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিক চুক্তির মধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়া আধিকারিকদের থেকে ১,০৭৫ কোটি টাকা উপার্জন হয়েছে। ৫০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় এই অঙ্কটা খুব বেশি নয়। অতএব বাংলাদেশ থেকে আইপিএলের আয় এর চেয়ে কম বলেই ধরে নেওয়া যায়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর আইপিএল টুর্নামেন্ট মোট যা রেভিনিউ উপার্জন করে, সেখানে বাংলাদেশের মতো বাজার থেকে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশই আসে। হতে পারে, লোকসানের এই পরিমাণ হয়ত কোটি-কোটি টাকায় ধার্য্য করা হবে। কিন্তু, যে টুর্নামেন্ট হাজার-হাজার কোটি টাকা উপার্জন করে, সেখানে এই অঙ্কটা খুব বড় নয়। 

আর সেকারণেই বাংলাদেশে আইপিএল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের খুব একটা বেশি মাথাব্যথা নেই বলেই জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম। কারণ এই টুর্নামেন্টের সিংহভাগ উপার্জনই আসে ভারতীয় বাজার থেকে। ভারতের টেলিভিশন এবং ডিজিটাল ভিউয়ারশিপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। জিও, স্টার এবং অন্য প্ল্যাটফর্মে কোটি-কোটি দর্শক এই আইপিএল টুর্নামেন্ট দেখেন। 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর