বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাদুরো যেদিন মেসির জন্য অঝোরে কেঁদেছিলেন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদুরো যেদিন মেসির জন্য অঝোরে কেঁদেছিলেন

নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বলিভারিয়ান যুগের অবসান ও এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা মাদুরোর গ্রেপ্তারের সেই আলোচিত ছবিও সংবাদমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এসবের আড়ালে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্টের একটি কম আলোচিত দিক ছিল। তা হল এফসি বার্সেলোনার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা।

দক্ষিণ আমেরিকায় বার্সার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও উচ্চকণ্ঠ সমর্থকদের একজন ছিলেন মাদুরো। তার এই ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। শাসনের শেষ প্রান্তে এসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, কতবার রাষ্ট্রপ্রধানের পোশাক ছেড়ে নীল-লাল জার্সিতে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন- ‘আশা করি মুস্তাফিজের মতো মাশরাফিকেও বাদ দেবে ভারত’

আরও পড়ুন- আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ বাংলাদেশে, ভারতের যে প্রতিক্রিয়া

২০২০ সালের মার্চ মাসের একটি দৃশ্য ছিল তার শাসনামলের সবচেয়ে অদ্ভুত মুহূর্তগুলোর একটি। কোভিড-১৯ মহামারিতে যখন বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধানরা গম্ভীর মুখে স্যুট-টাই পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরো হাজির হন উজ্জ্বল নীল রঙের পূর্ণ বার্সেলোনা ট্র্যাকস্যুট পরে।

পরে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বুকে থাকা ক্লাবের লোগোর দিকে ইশারা করে মজা করে বলেন, তিনি নাকি বার্সার নতুন ‘রেফুয়ের্সো’ (স্কোয়াডের নতুন শক্তি) হিসেবে সই করেছেন। এরপর ক্যামেরার সামনে স্প্যানিশ-ভেনেজুয়েলান মিশ্র উচ্চারণে চিৎকার করেন, “ভিসকা এল বার্সা! কাতালান!”


বিজ্ঞাপন


যখন দেশ ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটে, তখন এমন হালকা মুহূর্ত অনেককেই বিস্মিত করেছিল। বার্সার দক্ষিণ আমেরিকান তারকাদের সঙ্গে মাদুরোর আবেগী সম্পর্ক ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে। ২০২১ সালের আগস্টে আর্থিক জটিলতায় মেসির বার্সা ছাড়ার ঘটনায় মাদুরো তা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রীয় ভাষণে তিনি বলেন, “মেসির সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা খুবই কুৎসিত। আমি তার সঙ্গে কেঁদেছি। ওকে কাঁদতে দেখে আমি কেঁদেছি, কারণ সে একজন ভালো মানুষ, সত্যিকারের ছেলে, বিশ্বের এক মহান ক্রীড়া নায়ক।” জোয়ান লাপোর্তার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, “তারা মেসিকে ব্যবহার করেছে যতটা সম্ভব টাকা কামানোর জন্য… তারপর তাকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছে।”

এরও আগে, ২০১৪ বিশ্বকাপে জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় যখন লুইস সুয়ারেজ বিশ্বজুড়ে নিন্দিত, তখন অল্প কয়েকজন বিশ্বনেতার একজন হিসেবে তার পাশে দাঁড়ান মাদুরো। রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ওরা উরুগুয়েকে ক্ষমা করতে পারে না, কারণ সাধারণ মানুষের এক ছেলে ফুটবলের দুই বড় শক্তিকে হারিয়েছে।” এখানে তিনি ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে সুয়ারেজের গোলের কথাই বোঝাচ্ছিলেন।

মাদুরোর কাছে অনেক সময় এল ক্লাসিকো ছিল অর্থনৈতিক সংকটের চেয়েও বেশি জরুরি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার ও মুদ্রানীতি নিয়ে দীর্ঘ এক বৈঠকের মাঝেই হঠাৎ থেমে যান তিনি। মুহূর্তেই মাদুরো চিৎকার করে ওঠেন, “ভিভা মেসি! ভিভা কাতালুনিয়া!”

এরপর বিস্মিত মন্ত্রী ও জেনারেলদের দিকে তাকিয়ে তিনি জানতে চান, কারা রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থক, আর কারা বার্সেলোনা! রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর অধ্যায় হয়তো শেষের পথে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমী, বিশেষ করে একজন উন্মুক্ত বার্সা-সমর্থক হিসেবে তার এই অধ্যায় ইতিহাসে থেকে যাবে নিঃসন্দেহে আলাদা এক গল্প হয়ে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর