রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

যেসব আমল পছন্দ করতেন নবীজি (স.)

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

যেসব আমল পছন্দ করতেন নবীজি (স.)

মহানবী (স.) তাঁর প্রিয় সাহাবিদের ফরজ ইবাদত ছাড়াও কিছু আমলের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নবীজির (স.) কাছে ওসব আমল খুব প্রিয় ছিল। নিচে তেমন কিছু ফজিলতপূর্ণ আমল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার থেকে উত্তম।’(সহিহ মুসলিম: ৭২৫)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী (স.) কোনো নফল (ফরজ/ওয়াজিব নয় এমন) নামাজকে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করতেন না।’ (সহিহ বুখারি: ১১৬৯)


বিজ্ঞাপন


কোরআন শিক্ষা দেওয়া
উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি: ৫০২৭)

আরও পড়ুন: কঠিন সময়ে বন্ধু হবে কোরআন

আহার করানো ও সালাম দেওয়া
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (স.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ইসলামের কোন আমলটি উত্তম? তিনি বলেন, ‘আহার করানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।’ (সহিহ বুখারি: ২৮)

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা অথবা ঘৃণা করা
আবু জার (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই বিদ্বেষ পোষণ করা অতি উত্তম কাজ।’ (আবু দাউদ: ৪৫৯৯)


বিজ্ঞাপন


পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫)

আরও পড়ুন: জান্নাতে কোন নারী কেমন স্বামী পাবেন

সংশয়মুক্ত ঈমান ও আমল
আবদুল্লাহ ইবনে হুবশি খাসআমি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.)-কে প্রশ্ন করা হলো যে সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সংশয়মুক্ত ঈমান, খেয়ানতবিহীন জিহাদ এবং পাপমুক্ত হজ।’ (নাসায়ি: ২৫২৬)

তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ আদায়
তাকবিরে উলার সঙ্গে (ইমামের প্রথম তাকবির) নামাজ আদায়ের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। এই আমলে জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং সে প্রথম তাকবিরও পাবে তার জন্য দুটি মুক্তির পরওয়ানা লেখা হবে। (এক) জাহান্নাম থেকে মুক্তি। (দুই) নেফাক থেকে মুক্তি। (তিরমিজি: ১/৩৩; আত-তারগিব: ১/২৬৩)

সুরা ফাতেহা শেষ হওয়ার আগে জামাতে শরিক হতে পারলেও কোনো কোনো ফকিহ তাকবিরে উলার সওয়াব হাসিল হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন। (ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ২/৫৪; রদ্দুল মুখতার: ১/৫২৬)

দীর্ঘ নামাজ
আবদুল্লাহ ইবনে হুবশি আল-খাসআমি (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল (সা.)-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন সদকা উত্তম? তিনি বলেন, ‘নিজ শ্রমে উপার্জিত সামান্য সম্পদ থেকে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হিজরত উত্তম? তিনি বলেন, ‘আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকা।’ জিজ্ঞেস করা হলো কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জীবন ও সম্পদ মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ধরনের মৃত্যু মর্যাদাসম্পন্ন? তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি (যুদ্ধের ময়দানে) নিজের ঘোড়াসহ নিহত হয়।’ (আবু দাউদ: ১৪৪৯)

আরও পড়ুন: টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

তাহাজ্জুদ
মহানবী (স.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের তাহাজ্জুদের নামাজ’ (মুসলিম: ১১৬৩)। ঈমানদারের গুণাবলি বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগতপরায়ণ, আল্লাহর পথে ব্যয়কারী ও রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৭)

মেসওয়াক 
প্রিয়নবী (স.)-এর প্রিয় একটি সুন্নত মেসওয়াক করা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এটি। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘মেসওয়াক মুখের পবিত্রতা, রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৮৯; সহিহ ইবনে হিব্বান: ১০৬৭)। অপর হাদিসে এসেছে, ‘আমাকে মেসওয়াকের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমার আশঙ্কা হতে লাগল,  না জানি আমার ওপর তা ফরজ করে দেওয়া হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৬০০৭)

মাসে তিন রোজা, চাশত ও বিতির নামাজ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ (স.) আমাকে তিনটি অসিয়ত করেছেন—এক. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুই. দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়া, তিন. ঘুমের আগে বিতরের নামাজ পড়া।’ (সহিহ বুখারি: ১১৭৮)

হাদিসে তিন রোজা বলতে প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজাকে বুঝানো হয়েছে। এ রোজাকে বলা হয় আইয়ামে বিজের রোজা। আলোচ্য হাদিসে মহানবী (স.) তিনটি বিশেষ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসবিশারদরা বলেন, যদিও এ হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.)-কে সম্বোধন করা হয়েছে, তবু তা উম্মতের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। সবার উচিত আমল তিনটির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত উপরোক্ত আমলগুলো ইখলাসের সঙ্গে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর