শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

কোরআন তেলাওয়াতের পর দোয়া

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরআন তেলাওয়াতের পর দোয়া

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের সময় এবং আগে বেশকিছু আদব বা শিষ্টাচারের উল্লেখ রয়েছে হাদিসে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে তেলাওয়াতের পরে বিশেষ কোনো দোয়া পাঠ করার কথা বলা হয়নি। বরং দুনিয়া আখেরাতের কল্যাণে যেকোনো দোয়া পাঠ করা যাবে।

প্রিয়নবী (স.) কোরআনের বৈঠকসহ সবরকম বৈঠকের পরে একটি দোয়া পাঠ করতেন। সেই দোয়াকে অনেকে কোরআন তেলাওয়াতের পরের দোয়া বলে থাকেন। যদিও তা কোরআন খতম কিংবা তেলাওয়াতের পরের সুন্নত হিসেবে প্রমাণিত নয়।


বিজ্ঞাপন


যেকোনো বৈঠকের পরে নবীজি যে দোয়া পড়তেন, তা হলো— سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আসতাগফিরুকা ওয়াআতুবু ইলাইকা।’ অর্থ: আমি প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তাওবা করছি। (সিলসিলাতুস সহিহা: ৩১৬৪)

আরও পড়ুন: মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া

এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম- হে আল্লাহর রাসুল! আমি দেখি— আপনি যেকোনো বৈঠক, যেকোনো তেলাওয়াত এবং যেকোনো নামাজ এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে সমাপ্ত করে থাকেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা বলল, তার জন্য সেই ভালোর ওপর সীলমোহর সাব্যস্ত এবং যে ব্যক্তি কোনো খারাপ কথা বলল, তার জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হলো- ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আসতাগফিরুকা ওয়াআতুবু ইলাইকা।’ (সিলসিলাতুস সহিহা: ৩১৬৪)

শায়খ সিন্দি (রহ.) বলেন, ‘উদ্দেশ্য হচ্ছে এই জিকিরটি সেই ভালো কাজকে সাব্যস্তকারী, কবুলের মর্যাদায় উন্নীতকারী ও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশংকামুক্তকারী হওয়া।’ (মিরাআতুল মাসাবিহ: ৮/২০৪)


বিজ্ঞাপন


সুন্নতের অনুসরণে এই জিকির পড়ার মাধ্যমে বৈঠক সমাপ্ত করা মোস্তাহাব; তা যে বৈঠক-ই হোক না কেন। যেমন-কোরআনের বৈঠক, নামাজ কিংবা সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে বৈঠক, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক, সমঝোতা বৈঠক কিংবা অন্য কোনো বৈঠকের পর সরাসরি উঠে যাওয়ার আগে এই দোয়াটি পাঠ করা মোস্তাহাব আমল।

সুতরাং বোঝা গেল- দোয়াটি খতমে কোরআন বা অন্য কিছুর দোয়া নয়; বরং এটি সব বৈঠকের জন্য সাধারণ দোয়া। তবে আলেমগণ কোরআন খতমের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়াকে সুনির্দিষ্টভাবে মোস্তাহাব বলে সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম নববি (রহ) বলেন, ‘কোরআন খতমের অনুষ্ঠান উপস্থিত হওয়া তাগিদপূর্ণ মোস্তাহাব।’ (আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কোরআন, পৃষ্ঠা-১৫৯)

আরও পড়ুন: মজলিসে জিকিরের ফজিলত

ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন, ‘কোরআন খতমের সময় দোয়াতে হাজির থাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ও অন্যদেরকে একত্র করা মোস্তাহাব। (আল-মুগনি: ২/১২৬)। 

ইমাম আহমদ ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) সম্পর্কেও এমন বর্ণনা রয়েছে। 

মোটকথা, কোরআন তেলাওয়াতের পরে তেলাওয়াতের ওসিলায় আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে যেকোনো কল্যাণের জন্য দোয়া করা যাবে। তবে বিশেষ কোনো দোয়াকে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কেননা এ মর্মে বিশেষ কোনো দোয়া বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রত্যেকটি কাজ সুন্নতের অনুসরণে করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর