মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভাগ্য পরিবর্তনে দোয়ার অকল্পনীয় ভূমিকা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৬:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ভাগ্য পরিবর্তনে দোয়ার অকল্পনীয় ভূমিকা

ইসলামে দোয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। সাহাবি নোমান বিন বাশির (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত’ (আবু দাউদ: ১৪৮১)। অহংকার করে যারা এই ইবাদত ছেড়ে দেয় তাদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। অহংকারবশত যারা আল্লাহর ইবাদত করে না, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন: ৬০)

ভাগ্য পরিবর্তনে দোয়া অসামান্য ভূমিকা পালন করে। দোয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যলিখন পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তাকদিরের বিরুদ্ধে সতর্কতা কোনো কাজেই আসবে না। যা ঘটেছে ও যা ঘটতে পারে—তা থেকে শুধু দোয়াই পারে নিষ্কৃতি দিতে। কোনো কোনো দুর্দশার সঙ্গে মোকাবেলা করে বিচার দিন পর্যন্ত লড়াই করতে থাকে দোয়া।’ (তাবরানি আউসাত: ১৫১৯)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: কঠিন সময়ের বন্ধু ‘সুরা মুলক’

আল্লাহর অসন্তুষ্টি দূর করে দোয়া। কেননা আল্লাহর কাছে না চাওয়ার অর্থ নিজেকে স্বনির্ভর দাবি করা। এটি অনেকটা শিরকের নামান্তর। যারা দোয়া করে না এমন মানুষের প্রতি আল্লাহ খুবই অসন্তুষ্ট হন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে ডাকে না আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হন।’ (তিরমিজি: ৩৩৭৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো কিছু নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯)

সুতরাং যেকোনো বিষয়ে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, দোয়া কখনও বিফলে যায় না। দোয়ার বিনিময় কখনও আল্লাহ তৎক্ষণাৎ দিয়ে দেন, কখনওবা জমা করে রাখেন পরকালের জন্য। কখনও দোয়ার বরকতে বিপদাপদ দূর করে দেন বা অন্য কোনো কল্যাণ দান করেন। তাই কবুল হবে না—এমন মনোভাব নিয়ে দোয়া করা যাবে না। 


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: দোয়া কবুল না হওয়ার ৫ কারণ

হাদিসে বিষয়টি এভাবে এসেছে যে ‘যখন কোনো মুসলমান দোয়া করে, যদি তার দোয়ায় গুনাহের কাজ কিংবা সম্পর্কচ্ছেদের আবেদন না থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তিনটি প্রতিদানের যেকোনো একটি অবশ্যই দান করেন। সঙ্গে সঙ্গে দোয়া কবুল করেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত জিনিস দিয়ে দেন। দোয়ার কারণে কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে হেফাজত করেন। তার আখেরাতের কল্যাণের জন্য তা জমা করে রাখেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ১১১৪৯)

যারা দোয়া করে না তাদেরকে প্রিয়নবী (স.) অক্ষম ও অলস বলে আখ্যায়িত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে দোয়া করে না সে সবচেয়ে অক্ষম (অলস)। আর যে সালাম দেয় না সে কৃপণ।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ১৯৩৯)। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ছোট-বড় যেকোনো বিষয়ে বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর