বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের স্বপ্নভঙ্গ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের স্বপ্নভঙ্গ

আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল একজন কট্টর মুনাফিক এবং সকল মুনাফিকের সর্দার। ইসলামের ইতিহাসে সে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল নামে প্রসিদ্ধ। উবাই তার পিতা আর ‘সালুল’ তার দাদি কিংবা মা। মর্যাদাবান বদরি সাহাবি আবদুল্লাহ (রা.)-এর পিতা ছিল এই মুনাফিক সর্দার। 

মুসলিমদের অরক্ষিত রেখে যে উহুদের ময়দান থেকে ৩০০ যোদ্ধা নিয়ে ভেগে গিয়েছিল। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর ওপর অনাচারের অপবাদ দিয়েছিল যে। যে রাসুলকে হত্যা করতে মদিনার ইহুদিদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করেছিল। রাসুলুল্লাহ (স.)-কে মদিনা থেকে বের করে দিতে একের পর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। (তাফসিরে মারেফুল কোরআন ও ইবনে কাসির)


বিজ্ঞাপন


মদিনার প্রভাবশালী দুই গোত্র ‘আউস’ ও ‘খাজরাজ’। যুগ যুগ ধরে তারা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত ছিল। এক গোত্রের লোক অন্য গোত্রের লোককে সইতে পারত না। তবে মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি ছিল না। কারণ সে ছিল ‘খাজরাজ’ গোত্রের সর্বাধিক সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের অন্যতম। কূটকৌশল, বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তায় ছিল খুবই পারদর্শী। তাই লোকেরা মনস্থির করেছিল তাকে মদিনার রাজত্বের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার। স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ করছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই।

কিন্তু সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। কারণ আল্লাহ তাআলা সেই জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্য। মহান আল্লাহ আউস-খাজরাজের নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তিলাভের ব্যবস্থা করলেন। তাদের ভাগ্যের দুয়ার এভাবে খুলে দিলেন যে, নেতৃত্বের মসনদে অধিষ্ঠিত করলেন মানবতার মুক্তির দূত মহানবী (স.)-কে।

মহানবী (স.)-এর নেতৃত্বে খুব দ্রুতগতিতে ইসলামের প্রসার হতে লাগল তখন আকাশ ভেঙে পড়ল আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মাথার ওপর। ভূলুণ্ঠিত হলো তার আকাশকুসুম স্বপ্ন। তার ও তার ভক্তদের গাত্রদাহ শুরু হলো। কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব ও মর্যাদার অন্তরায় মনে করল প্রিয়নবী (স.)-কে। অথচ প্রিয়নবী (স.) ছিলেন সকলের মুক্তিকামী, চিরস্থায়ী সম্মান ও মর্যাদার অভিলাষী। সেই মিত্রকেই শত্রু ভেবে উবাই বেছে নিল ষড়যন্ত্রের পথ। লিপ্ত হলো মদিনা থেকে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা আর ষড়যন্ত্র।

সরাসরি বিরোধিতা করে সুবিধা করা যাবে না, তাই সে ও তার অনুসারীরা বদর যুদ্ধে কাফেরদের শোচনীয় পরাজয়ের পর বাহ্যিকভাবে ইসলামের সামনে মাথা নত করল। সাহাবায়ে কিরামের সঙ্গে রাসুল (স.)-এর দরবারে আসা-যাওয়া করতে লাগল। কিন্তু অবস্থা ছিল ‘মুখে ইসলাম, ভেতরে ইসলামকে মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’।


বিজ্ঞাপন


নেতৃত্বের নেশা তার মাথা থেকে তখনও যায়নি। তার প্রয়োজন নেতৃত্ব, যেভাবেই হোক। হোক না সে নেতৃত্ব ডাকাতদলের, কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের। তাই হাতে নিল ক্রিমিনাল প্রকৃতির অসাধু কিছু মানুষকে, যাদের চিন্তা-চেতনা ছিল সম্পূর্ণ মানবতার বিরুদ্ধে, অন্তরালে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে। মৃত্যু পর্যন্ত ইসলাম, মুসলমান ও নবীজির বিরুদ্ধে তার ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে।

এই মুনাফিক নেতা মারা যায় নবম হিজরি সনে; রাসুল (স.) তাবুক থেকে ফিরে আসার পর। আল্লামা আইনি (রহ.) ‘উমদাতুল কারী শরহে বুখারি’ গ্রন্থে লিখেছেন, নবম হিজরির শাওয়ালের শেষের দিকে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ২০ দিন অসুস্থ থাকার পর জিলকদ মাসে মারা যায়। তার অসুস্থ অবস্থায় রাসুল (স.) তাকে দেখতে যেতেন; তার খোঁজখবর নিতেন। সর্বশেষ তার অন্তিম সময়ে তার পাশে গিয়ে বসলেন।

তাকে বললেন, তোমাকে ইহুদিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তুমি...। সে বলল, আসআদ ইবনে জুরারাহ তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করেছিল; কোনো লাভ তো হয়নি। সেটা বাদ দিন! এখন ভর্ৎসনার সময় নয়; এখন আমার শেষ সময়। আমার অনুরোধ থাকবে, আমার মৃত্যুর পর আপনি আমার গোসলে উপস্থিত থাকবেন; আপনার পরিহিত একটি জামা আমার কাফনে যোগ করবেন; আমার জানাজা পড়াবেন এবং আমার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করবেন।’ (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৩/১৯৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকল প্রকার মুনাফিকি ও অসাধুতা থেকে হেফাজত করুন। বিশ্বনবী (স.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর