বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

পাঠকারীকে জান্নাতে পাঠানো পর্যন্ত লড়বে যে সূরা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

পাঠকারীকে জান্নাতে পাঠানো পর্যন্ত লড়বে যে সূরা

পবিত্র কোরআনের ৩০ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা, যা আল্লাহর কাছে ততক্ষণ সুপারিশ করবে, যতক্ষণ না তার পাঠকারীকে ক্ষমা করা হয়। সূরাটির নাম ‘সূরা আল মুলক’। পবিত্র কোরআনের ৬৭তম এবং ঊনত্রিশ নম্বর পারার প্রথম সূরা এটি। যে ব্যক্তি প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করবে, পাঠকারীর জন্যে সে সূরা কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। তাকে কবরের আজাব থেকে হেফাজত করবে। এটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন—


বিজ্ঞাপন


إِنَّ سُورَةً مِنَ القُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ

‘কোরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে যেটি কারো পক্ষে সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়। এ সূরাটি হল তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা মুলক)।’ (আবু দাউদ: ১৪০০; তিরমিজি: ২৮৯১)

সূরা মুলক কবরের আজাব থেকেও পাঠকারীকে সুরক্ষা দেবে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা মুলক) তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) এর জামানায় আমরা এই সূরাকে “আল-মা’আনিয়াহ” বা সুরক্ষাকারী বলতাম। যে রাতের বেলা এই সূরাটি পড়লো সে খুব ভালো একটি কাজ করলো”। (নাসায়ি ৬/১৭৯, শায়খ আলবানীর মতে হাদিসটি হাসান সহিহ, সহিহ আত-তারগিব ওয়াল তারহিব: ১৪৭৫)

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-এর অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কবরস্থিত ব্যক্তির পায়ের দিকে ফেরেশতারা শাস্তির জন্য আসতে চাইবে, তখন তার পদদ্বয় বলবে, আমার দিক দিয়ে আসার রাস্তা নেই। কেননা সে ‘সূরা আল মুলক’ পাঠ করত। তখন তার সীনা অথবা পেটের দিক দিয়ে আসতে চাইবে। তখন সীনা অথবা পেট বলবে, আমার দিকে আসার কোনো রাস্তা নেই। কেননা সে আমার মধ্যে ‘সূরা আল মুলক’ ভালোভাবে ধারণ করে রেখেছিল। অতঃপর তার মাথার দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে। মাথা বলবে, এ দিক দিয়ে আসার রাস্তা নেই, কেননা সে আমার দ্বারা ‘সূরা আল মুলক’ পাঠ করেছিল। সূরা মুলক হচ্ছে বাধাদানকারী। কবরের আজাব থেকে বাধা দেবে। তাওরাতেও সূরা মুলক ছিল। যে ব্যক্তি তা রাত্রে পাঠ করে, সে অধিক ও পবিত্র-উৎকৃষ্ট আমল করবে।’ (হাদিছটি বর্ণনা করেছেন হাকেম, তিনি বলেন, এর সনদ সহিহ)

সূরা মুলক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সূরা। আল্লাহ তাআলার রাজত্ব-কতৃর্ত্ব ও মহত্ত্বের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ সূরা। এতে আসমান ও গ্রহ-নক্ষত্রের সৃষ্টি-কুশলতা ও নিপুণতা উল্লেখের মাধ্যমে তাঁর কুদরতের কথা আলোচনা করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনার মাধ্যমে মানুষের জীবনের লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে মর্মস্পর্শী উপস্থাপনায়। স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে দুনিয়াতে আল্লাহর দেয়া সুযোগ ও ছাড়ের কথা। পরিশেষে তাঁর বিভিন্ন নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে মানুষের আল্লাহ-মুখাপেক্ষিতা ও অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহর শোকর আদায় ও আখেরাতের প্রস্তুতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এসব কারণে সূরা মুলক মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এক পাথেয়।

নবীজি (সা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ সূরা তিলাওয়াত করতেন। হাদিসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ (স.) ‘আলিফ লাম তানযীল’ (সূরা আস-সাজদাহ) এবং ‘তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মুলক’ (সূরা আল-মুলক) সূরা দুটি না পড়ে ঘুমাতেন না।” (তিরমিজি: ২৮৯৭, দারেমি: ৩৪১১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/৪৪৬ বা ৩৫৪৫)

এ সূরার বিশেষ দিক হচ্ছে— এটি তার আমলকারীকে জান্নাতে না নেয়া পর্যন্ত লড়তে থাকবে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন— 

কোরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা তার আমলকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করানো পর্যন্ত তার পক্ষে ওকালতি করেছে, তার পক্ষে লড়েছে। তা হলো, সূরা তাবারাকা (সূরা মুলক)। (আলমুজামুল আওসাত, তবারানী: ৩৬৫৪)

আল্লাহ তাআলার নিজ কালাম যদি তাঁর কাছে কারো মাগফিরাতের সুপারিশ করে তাহলে সে সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না—এমনটা ভাবা যায় না। সুতরাং ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্যে মুমিন মুসলমানের উচিত— এ সূরা সীনায় ধারণ করে রাখা এবং নিয়মিত পাঠ করা। আল্লাহ তাওফিক দিন। আমিন।

এমএ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর