শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

যে সাহাবির সঙ্গে কথা বলেছেন মহান আল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

যে সাহাবির সঙ্গে কথা বলেছেন মহান আল্লাহ

উহুদ যুদ্ধে ৭০ জনেরও বেশি সাহাবি শহিদ হয়েছেন। সেসব শহিদদের মধ্যে একজন সাহাবি ছিলেন, যাঁর সঙ্গে আল্লাহ তাআলার সরাসরি কথা হয়েছে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে স্বীকৃত যে, কোনো পর্দা ছাড়া তাঁর সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথন দুনিয়াতে জীবিতকালে হয়নি। বরং তা মৃত্যু-পরবর্তী (আলমে বরজখ) কবরের জীবনে হয়েছে। তিনি হলেন বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হারাম আল-আনসারি (রা.)। যাঁর জানাজায় ফেরেশতারা ছায়া দিয়েছিলেন। দাফনের প্রায় অর্ধশত বছর পরও যাঁর শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

উহুদের যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.)-কে শহিদ করার পর মুশরিকরা তাঁর শরীর বিকৃত করেছিল। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আমার পিতাকে (উহুদ যুদ্ধের দিন) তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকৃত অবস্থায় রাসুল (স.)-এর কাছে নেওয়া হয়। আমি পিতার চেহারা খুলতে গেলে আমাকে আপনজনরা নিষেধ করে। রাসুল (স.) বলেন, ‘ফেরেশতারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছে।’ (বুখারি: ১২৯৩; মুসলিম: ৬৫০৮)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: নবীজির রক্ত পান করেছিলেন যেসব সাহাবি

আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন
জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘উহুদ যুদ্ধের পর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম (রা.) শহিদ হলে রাসুল (স.) আমাকে বলেন, হে জাবের, আল্লাহ তাআলা তোমার পিতার সঙ্গে যে কথা বলেছেন আমি কি তা অবহিত করব না? ইয়াহইয়া (রহ.)-এর বর্ণনায় আছে, রাসুল (স.) বলেন, হে জাবের, আমার কী হলো, আমি তোমাকে ভগ্নহৃদয় দেখছি কেন? জাবের (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা শহিদ হয়েছেন এবং তিনি অনেক সন্তান ও ঋণের বোঝা রেখে গেছেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না যে, আল্লাহ তাআলা তোমার পিতার সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বলেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা কখনো অন্তরাল ছাড়া কারো সঙ্গে কথা বলেননি। কিন্তু তোমার পিতার সঙ্গে অন্তরাল ছাড়াই কথা বলেছেন। তিনি (আল্লাহ তাআলা) বলেছেন, ‘হে আমার বান্দা! আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দেব। তোমার পিতা বলল, হে আল্লাহ! আমাকে জীবন দান করুন, যাতে আমি আপনার পথে পুনরায় শহিদ হতে পারি। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আগেই লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি যে মানুষ (মৃত্যুর পর) আর (পৃথিবীতে) ফিরে যাবে না।’ তোমার পিতা বলল, হে আল্লাহ! তাহলে আমার উত্তরসূরিদের (আমার সৌভাগ্যের) এ খবর পৌঁছে দিন।’ (ইবনে মাজাহ: ১৯০)। অতঃপর রাসুল (স.) বলেন, আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন, ‘যাঁরা আল্লাহর পথে শহিদ হয়েছেন, তোমরা তাঁদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তাঁরা জীবিত এবং তাঁদের রবের কাছে জীবিকাপ্রাপ্ত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৬৯)

আরও পড়ুন: পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত একমাত্র সাহাবি

দীর্ঘকাল পরও অক্ষত মৃতদেহ
ইমাম জাহাবি (রহ.) ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে এবং ইবনে সাদ (রহ.) ‘আত তাবকাত’ গ্রন্থে জাবের (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে হারাম আনসারি (রা.)-এর সঙ্গে কবর দেওয়া হয় আমর ইবনুল জামুহ (রা.)-কে। কবর দেওয়ার ৪৬ বছর পর তাঁদের কবরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। লাশ সরানোর জন্য কবর খোঁড়া হলে তাঁদের একদম অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।


বিজ্ঞাপন


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাহাবিদের জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। দীনি দায়িত্ব পালন জীবনের চেয়ে অধিক মূল্যবান তা বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর