মক্কা ও মদিনার পবিত্র ‘হারাম’ সীমানার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে জড়ানো, শিকার করাসহ কিছু কাজে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই অনেকের প্রশ্ন, এসব এলাকার বিশেষ মর্যাদার কারণে দাম্পত্য সম্পর্কও কি নিষিদ্ধ? ইসলামের বিধান অনুযায়ী, শুধু হারাম সীমানার মধ্যে অবস্থানের কারণে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সহবাস নিষিদ্ধ হয় না। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা ইহরাম অবস্থায় আছেন কি না।
ইহরামমুক্ত অবস্থায় সহবাস জায়েজ
স্বামী-স্ত্রী হজ বা ওমরার ইহরাম থেকে নিয়ম অনুযায়ী হালাল হয়ে গেলে মক্কা বা মদিনার হারাম এলাকার মধ্যে তাদের সহবাসে বাধা নেই। হোটেল কিংবা ব্যক্তিগত বাসায় অবস্থান করলেও শুধু স্থানটির কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক নিষিদ্ধ হবে না।
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ওমরার ইহরাম গ্রহণের আগে কিংবা ওমরা সম্পন্ন করে ইহরাম থেকে বের হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে বাধা নেই, এমনকি তারা মক্কায় অবস্থান করলেও। তবে ইহরাম গ্রহণের পর এবং ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার আগে সহবাস নিষিদ্ধ।
এ থেকে বোঝা যায়, হারাম এলাকার পবিত্রতা এবং ইহরাম অবস্থার বিধান পৃথক বিষয়।
আরও পড়ুন: ইহরাম অবস্থায় সহবাস: হজ কি বাতিল হয়ে যাবে?
ইহরাম অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ
হজ বা ওমরার ইহরাম গ্রহণের পর স্বামী-স্ত্রীর সহবাস নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় যৌন সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায় এমন আচরণ থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, তার জন্য হজের মধ্যে স্ত্রী-সম্ভোগ, পাপাচার ও ঝগড়াবিবাদ বৈধ নয়।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭)
আয়াতটিতে হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিকহবিদরা হজের পাশাপাশি ওমরার ইহরাম অবস্থায়ও সহবাসের নিষেধাজ্ঞা ব্যাখ্যা করেছেন।
ইহরাম অবস্থায় সহবাস সংঘটিত হলে হজ বা ওমরার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে কখন তা ঘটেছে, তার ওপর। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে হজ বা ওমরা নষ্ট হওয়া এবং দম বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য হয়। তাই এমন ঘটনায় নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিজ্ঞ মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: সহবাসের পর যে ৭ আমল জানা জরুরি
ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার নির্দেশ
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (স.) যেসব সাহাবির সঙ্গে কোরবানির পশু ছিল না, তাঁদের হজের ইহরামকে ওমরায় পরিণত করে তাওয়াফ ও সাঈ শেষে চুল ছোট করে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। সাহাবিরা এ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাসের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছিলেন। (সহিহ বুখারি: ১৬৫১)
হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, ইহরাম থেকে নিয়ম অনুযায়ী হালাল হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কের নিষেধাজ্ঞা আর বহাল থাকে না। তবে হজের বিভিন্ন পর্যায়ে হালাল হওয়ার নিয়ম ও সময়ের পার্থক্য রয়েছে।
অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাও মানতে হবে
হারাম এলাকার মধ্যে ইহরামমুক্ত অবস্থায় সহবাস জায়েজ হলেও ইসলামের সাধারণ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকবে। যেমন, স্ত্রীর ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব চলাকালে সহবাস নিষিদ্ধ। রমজানে দিনের বেলায় রোজা অবস্থায়ও সহবাস নিষিদ্ধ। এ ছাড়া মসজিদে সহবাস করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা বাকারা: ১৮৭)
মোটকথা, মক্কা ও মদিনার হারাম এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সহবাস শুধু স্থানটির কারণে নিষিদ্ধ নয়। হজ বা ওমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ এবং শরিয়তের অন্যান্য নিষেধাজ্ঞাও মেনে চলতে হবে।
তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা: ১৮৭, ১৯৭; সহিহ বুখারি: ১৬৫১; ইসলামকিউএ: ২১০২৪০




