মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গত ৬ থেকে ১০ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন। কয়েক ধাপের বাছাই শেষে ৩৮টি দেশের প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন। চূড়ান্ত পর্বে হিফজুল কোরআন বিভাগে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ হিরা।
প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে হিরা পেয়েছেন ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নগদ অর্থ, একটি সম্মাননা ট্রফি, ৫ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ অথবা মুসলিম পর্যটন প্যাকেজ এবং ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান।
বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে শোনান হাফেজ হিরা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তার ওস্তাদ ও মা-বাবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ ইহতিশামকে সংবর্ধনা দেবে সরকার
অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ভারপ্রাপ্ত সচিব) এ এইচ এম কামরুজ্জামান আহমেদ ও যুগ্মসচিব আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হিরার সঙ্গে ছিলেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকার মিরপুর-১-এর মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাসুম ফয়েজী।
হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর শিক্ষার্থী। এর আগে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সা'দ নুরসহ অনেকে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। এবার সেই সাফল্যের ধারায় যুক্ত হলো হাফেজ হিরার নাম।
হিরার এ অর্জনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মুফতি মাসুম ফয়েজী। তিনি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেন, হিরাসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যেন যোগ্য আলেম, আদর্শ মানুষ ও দ্বীনের একনিষ্ঠ দায়ী হিসেবে কবুল করা হয়।




