নামাজ শেষে অনেক মুসল্লি ইমামের সঙ্গে মুসাফাহা করেন। কেউ এটিকে সুন্নত মনে করেন, আবার কেউ নিয়মিত এভাবে হাত মেলানো নিয়ে আপত্তি তোলেন। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান বুঝতে হলে সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা এবং নামাজের পর মুসাফাহার মধ্যে পার্থক্য জানা উচিত।
মুসাফাহার সাধারণ বিধান
মুসাফাহা অর্থ পরস্পর হাত মেলানো। মুসলমানদের সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নত। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দুজন মুসলিম পরস্পর মুসাফাহা করলে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (সুনান আবু দাউদ: ৫২১২; জামে তিরমিজি: ২৭২৭)
কাতাদা (রহ.) আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সাহাবিদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল কি না। আনাস (রা.) বলেন, হ্যাঁ। (সহিহ বুখারি: ৬২৬৩)
তবে সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা আর প্রত্যেক নামাজের পর নিয়ম করে মুসাফাহা করাকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় আমল মনে করা ঠিক নয়।
নামাজের পর মুসাফাহা নিয়ে আলেমদের মত
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিয়মিত মুসাফাহা করার সুস্পষ্ট বর্ণনা আমাদের জানা নেই। এ কারণে আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: মুসাফাহার সময় কি বুকে হাত লাগাতে হয়?
হানাফি ফিকহের অবস্থান: হানাফি ফিকহের কিছু গ্রন্থে নামাজের পর নিয়মিত মুসাফাহাকে মাকরুহ ও বিদআত বলা হয়েছে। রদ্দুল মুহতার-এ এ ধরনের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে। বিশেষ করে নামাজের পর মুসাফাহাকে নিয়মিত ধর্মীয় রীতি বানানো এবং একে নামাজের অংশ বা বিশেষ সুন্নত মনে করার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া)
ইমাম নববী (রহ.)-এর বক্তব্য: তিনি আল-আজকার গ্রন্থে বলেছেন, সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা সুন্নত। ফজর ও আছরের পর প্রচলিত মুসাফাহার এই নির্দিষ্ট রীতির আলাদা ভিত্তি না থাকলেও তিনি একে নিষিদ্ধ বলেননি। তাঁর ব্যাখ্যায়, নামাজের আগে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মুসাফাহা করা বৈধ, আর নামাজের আগে সাক্ষাৎ না হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে মুসাফাহা করা সাক্ষাতের সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
অন্য আলেমদের মত: কিছু আলেম নামাজের পর মুসাফাহাকে বৈধ বা প্রশংসনীয় মনে করেন। তাঁদের মতে, মুসাফাহার সাধারণ সুন্নতের আওতায় এটি করা যেতে পারে। তবে একে নামাজের আবশ্যক অংশ মনে করা উচিত নয়।
তাহলে ইমামের সঙ্গে মুসাফাহা করলে কি গুনাহ হবে?
নামাজের পর ইমামের সঙ্গে মুসাফাহা করলেই গুনাহ হবে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা ভালো।
আরও পড়ুন: সাক্ষাতে ৪ সুন্নত: আল্লাহর ভালোবাসা লাভের সহজ উপায়
সৌজন্য বজায় রাখুন: সাক্ষাৎ ও সালামের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মুসাফাহা করা যেতে পারে।
আবশ্যক আমল মনে করবেন না: নামাজের পর মুসাফাহাকে নির্ধারিত সুন্নত বা বিশেষ সওয়াবের আমল হিসেবে প্রচার করা যাবে না।
না করলে দোষ দেবেন না: কেউ মুসাফাহা না করলে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা বা বিরোধ সৃষ্টি করা যাবে না।
অন্যের নামাজে বিঘ্ন ঘটাবেন না: কেউ সুন্নত নামাজ পড়লে বা মাসবুক হিসেবে বাকি নামাজ আদায় করলে তাঁর সামনে লাইন ধরে মুসাফাহা করতে গিয়ে অসুবিধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তথ্যসূত্র: সুনান আবু দাউদ: ৫২১২; জামে তিরমিজি: ২৭২৭; সহিহ বুখারি: ৬২৬৩; আল-আজকার; রদ্দুল মুহতার; ফাতোয়া মাহমুদিয়া




