কাতারের রাজধানী দোহায় শুরু হয়েছে ‘কোরআন ও মানবজ্ঞান সম্মেলন’-এর দ্বিতীয় আসর। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ‘দ্য বুক অব দ্য উম্মাহ রাইটার্স ফোরাম’। কোরআনের নির্দেশনা ও মানববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
‘এটি সর্বাধিক সঠিক পথের দিকে পথনির্দেশ করে’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ বিভাগ এবং কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস ও কলেজ অব শরিয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ।
ইসলামি জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সমকালীন একাডেমিক গবেষণার সমন্বয় ঘটানো এবং বর্তমান সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণাকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক শেখ ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ বিন গনেম আল থানি বলেন, কোরআনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা এবং একাডেমিক আয়োজনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানচর্চার প্রকল্পে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই সম্মেলন ও লেখক ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মস্কো বইমেলায় কোরআন নিয়ে সৌদির বিশেষ আয়োজন
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব শরিয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের ডিন ড. ইব্রাহিম আবদুল্লাহ আল আনসারি দুই প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বকে গবেষণা ও জ্ঞান উৎপাদনে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক উদ্যোগ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রণী জাতীয় মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোরআনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজ। ইতিহাসে কোরআন ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনে আলেমদের অনুপ্রাণিত করেছে।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক বদরান বেনলাহসেন বলেন, সম্মেলনটি এই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে কোরআন পথনির্দেশ ও জ্ঞানের উৎস। এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গঠন, বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের দিকনির্দেশনা এবং বিজ্ঞানসমূহকে তাদের নৈতিক, মানবিক ও সভ্যতাগত উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার সামর্থ্য রাখে।
সম্মেলনের চারটি প্রধান বিষয় হলো কোরআন ও দর্শন, কোরআন ও ভাষাবিজ্ঞান, কোরআন ও আইন এবং কোরআন ও রাজনীতি। এসব বিষয়ে কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক নানা প্রশ্ন নিয়ে আন্তঃবিষয়ক আলোচনা হচ্ছে।
এই চার বিষয়ে প্রায় ২ হাজার গবেষণার সারসংক্ষেপ জমা পড়ে। কয়েক ধাপে একাডেমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫৮টি সারসংক্ষেপ পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়। ৪৬টি গবেষণাপত্র বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত ৯টি দেশের গবেষকদের ১৭টি গবেষণাপত্র সম্মেলনের চূড়ান্ত কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয়।
সম্মেলনে কাতার ছাড়াও মরক্কো, আলজেরিয়া, মিসর, তুরস্ক, ইয়েমেন, ওমান, ইরাক ও সুদানের গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন।
সূত্র: দ্য পেনিনসুলা কাতার




