রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মানুষের উপকার না করলে কি গুনাহ হবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মানুষের উপকার না করলে কি গুনাহ হবে?

জীবনে অনেক সময় মানুষের উপকার করার সুযোগ আসে। সামর্থ্যও থাকে। কিন্তু সেই উপকার করতে গেলে নিজের ক্ষতি হতে পারে, নিজের বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজন ব্যাহত হতে পারে, কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় এগিয়ে না যাওয়াই ভালো মনে হতে পারে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে- কাউকে উপকার করার সুযোগ পেয়েও তা না করলে কি গুনাহ হবে?

ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে বলা যায় না। কারও উপকার করা সবক্ষেত্রে ফরজ নয়। আবার যেখানে মানুষের জীবন, অধিকার বা অপরিহার্য প্রয়োজন জড়িত, সেখানে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।

উপকার করা ইসলামে মর্যাদার কাজ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অন্যকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়েদা: ২)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার কোনো মসিবত দূর করে দেবে, আল্লাহ তাআলা বিচার দিবসে তার মসিবত সরিয়ে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)

অর্থাৎ মানুষের কষ্ট লাঘব করা ইসলামে মর্যাদাপূর্ণ আমল। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন মুমিনের উত্তম চরিত্রের পরিচয়।

যেসব ক্ষেত্রে সাহায্য করা দায়িত্ব হতে পারে

কেউ জীবনসংকটে পড়েছেন, গুরুতর আহত হয়েছেন কিংবা এমন বিপদে আছেন, যেখান থেকে নিরাপদে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব, এমন পরিস্থিতিতে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন অন্যায় হতে পারে। বিশেষ করে সেখানে অন্য কেউ সাহায্য করার জন্য না থাকলে দায়িত্ব আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: লোক দেখানো সহযোগিতা কি সওয়াব নষ্ট করে?

তবে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করতে ইসলাম কাউকে বাধ্য করে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ উপায়ে সাহায্য করা, জরুরি সহায়তা ডাকা কিংবা অন্যের সহায়তা নেওয়াই করণীয়।

একইভাবে যাদের অধিকার কোনো ব্যক্তির ওপর রয়েছে, তাদের প্রাপ্য আদায় করাও দায়িত্বের বিষয়। স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, সামর্থ্য অনুযায়ী জাকাত আদায়, আমানত ফেরত দেওয়া কিংবা কারও বৈধ পাওনা পরিশোধ করা অনুগ্রহ নয়-এগুলো অধিকার ও দায়িত্ব।

সব সাহায্য কি ফরজ?

না। কারও চাকরির সুপারিশ করা, ব্যবসায় সহযোগিতা করা, ব্যক্তিগত কাজে পাশে দাঁড়ানো বা সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে ঋণ দেওয়া এসব সাধারণত নফল বা ঐচ্ছিক ভালো কাজের মধ্যে পড়ে। এগুলো না করলে সবক্ষেত্রে গুনাহ হবে এমন নয়। তবে তা একটি নেক আমলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

আবার কেউ যদি অন্যায় বা হারাম কাজে সাহায্য চায়, সেখানে সাহায্য না করাই কর্তব্য। কারণ পবিত্র কোরআনেই পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে।

‘কেন করলাম না’, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ

কাউকে সাহায্য করা ফরজ না হলেও সাহায্য না করার কারণটি গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিকারের অপারগতা এক বিষয়, আর হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ বা কৃপণতার কারণে কারও প্রয়োজন উপেক্ষা করা অন্য বিষয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহে কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮০)

তাই কোনো ভালো কাজ করতে না পারা সবসময় গুনাহ নয়। তবে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শুধু স্বার্থপরতা বা কৃপণতার কারণে মানুষের কল্যাণের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া একজন মুমিনের জন্য প্রশংসনীয় চরিত্র নয়।

আরও পড়ুন: অসহায় মানুষ দেখে কষ্ট হয়? আপনার জন্য কোরআন–হাদিসের ঘোষণা

ছোট উপকারও তুচ্ছ নয়

উপকার মানেই অর্থ খরচ করা নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে উপস্থিত হওয়াও তোমার জন্য সদকা।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬) আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজই সদকা।’ (সহিহ বুখারি: ৬০২১)

তাই একটি প্রয়োজনীয় ফোনকল, ভালো পরামর্শ, কাউকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া কিংবা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোও মানুষের জন্য উপকার। কারও উপকার করার সুযোগ এলে তাই শুধু ‘আমি কেন করব?’ না ভেবে এটিও ভাবা যায় যে ‘আল্লাহ কি আমাকে একজন মানুষের উপকার করার সুযোগ দিয়েছেন?’ মানুষের উপকার করার সামর্থ্যও আল্লাহর একটি নেয়ামত।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর