ধরুন, আপনি আরও দুজনের সঙ্গে আছেন। হঠাৎ তাঁরা নিচুস্বরে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করলেন। কথাগুলো আপনার কানে আসছে না। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তারা কি আপনাকে নিয়েই কথা বলছেন?
ইসলাম এমন পরিস্থিতিতে অন্যের আচরণের পাশাপাশি নিজের আচরণ নিয়েও সতর্ক হতে বলে। তিনজনের মধ্যে দুজন এমনভাবে আলাদা হয়ে কথা বলবেন না, যাতে তৃতীয়জন কষ্ট পান বা নিজেকে বাদ পড়া মনে করেন। নবীজি (স.) এ থেকে নিষেধ করেছেন।
তিনজনের মধ্যে দুজনের গোপনে কথা বলা
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তিনজন একসঙ্গে থাকলে তাদের মধ্যে দুজন যেন তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে গোপনে কথা না বলে।’ (সহিহ বুখারি: ৬২৮৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এতে তার মনে দুঃখ হবে। তোমরা পরস্পর মিশে গেলে তবে তা করাতে দোষ নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৬২৯০)
নিষেধের কারণও হাদিসে স্পষ্ট। তাই বিষয়টি শুধু ফিসফিস করে কথা বলার নয়, এর সঙ্গে অন্যের অনুভূতি ও সম্মানের প্রশ্নও জড়িত।
আরও পড়ুন: সংসারে সন্দেহ ঢুকলে যা করতে বলেছেন ইসলাম
প্রথম করণীয়: সন্দেহ নয়
তারা কী নিয়ে কথা বলছেন, তা আপনি জানেন না। তাই ‘নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে কথা বলছে’ এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা বেশি ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)
একই আয়াতে অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই তাঁদের কথায় আড়ি পাতা, কান পেতে শোনার চেষ্টা করা বা অনুমানের ভিত্তিতে মন খারাপ করা ঠিক নয়।
অস্বস্তি হলে কী করবেন
দুজন দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে কথা বললে আপনি শান্তভাবে সরে যেতে পারেন। প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবে বলতে পারেন, ‘আপনারা কথা বলুন, আমি একটু ওদিকে যাচ্ছি।’ তাদের কথার বিষয় জানতে চাপ দেওয়ার দরকার নেই। তাদেরও ব্যক্তিগত কথা বলার প্রয়োজন থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: তিনজনের আড্ডায় দুজনের ফিসফাস: নবীজির সতর্কতা
গোপনে কথা সবসময় খারাপ নয়
ইসলাম সব ধরনের গোপন আলাপ নিষিদ্ধ করেনি। আল্লাহ বলেন, মানুষের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কল্যাণ নেই। তবে দান-সদকা, সৎকাজ এবং মানুষের মধ্যে মীমাংসার বিষয়ে গোপন পরামর্শ এর ব্যতিক্রম। (সুরা নিসা: ১১৪)
অর্থাৎ গোপনে কথা বলাই মূল সমস্যা নয়। সমস্যা হলো এমনভাবে কথা বলা, যাতে তৃতীয়জন অকারণে কষ্ট পান, অপমানিত বোধ করেন বা নিজেকে বাদ পড়া মনে করেন।
আপনি নিজে ফিসফিসকারী হলে
তিনজনের মজলিসে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলার প্রয়োজন হলে সম্ভব হলে আলাদা জায়গায় গিয়ে বলুন। সেটা সম্ভব না হলে তৃতীয়জনের অনুমতি নিন। এতে তার মনে কষ্ট বা সন্দেহ তৈরির আশঙ্কা কমে।
আপনার সামনে দুজন ফিসফিস করলে অযথা সন্দেহ করবেন না, কান পেতে শুনবেন না এবং অনুমানের ভিত্তিতে মন খারাপ করবেন না। আর আপনি নিজে এমন অবস্থায় থাকলে তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে এমনভাবে গোপনে কথা বলবেন না, যাতে তিনি কষ্ট পান।
ইসলামের শিক্ষা হলো, নিজের ব্যক্তিগত বিষয় যেমন সম্মানের সঙ্গে রাখা, তেমনি অন্যের মনেও অকারণে কষ্ট না দেওয়া।
তথ্যসূত্র: সুরা নিসা ১১৪; সুরা হুজুরাত ১২; সহিহ বুখারি: ৬২৮৮, ৬২৯০




