শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মনে মনে দরুদ পড়লে কি সওয়াব হয়?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

মনে মনে দরুদ পড়লে কি সওয়াব হয়?

মনে মনে আল্লাহর জিকির বা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর দরুদ পড়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে মুখে উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে পড়লে সওয়াব হবে কি না, এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে?

দরুদ পড়ার ফজিলত

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ কর এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)

আরও পড়ুন: জুমার দিনে যে আমলটি ভুলে যান অনেকে

মনে মনে পড়লে কী হবে?

জিকিরের ক্ষেত্রে অন্তরের স্মরণেরও গুরুত্ব রয়েছে। তবে হাদিসে জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর জিকির করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) এক সাহাবিকে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমার জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭৫)

আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অন্তরে আল্লাহকে স্মরণ করা বৈধ। তাই কেউ মনে মনে আল্লাহর জিকির বা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর দরুদ পড়লে তা নিষিদ্ধ নয় এবং সওয়াবের আশা করা যায়।

আরও পড়ুন: হাদিসে বর্ণিত ছোট ১০ দরুদ

তবে মুখে উচ্চারণের সুযোগ থাকলে জিহ্বা দিয়ে জিকির ও দরুদ পড়া উত্তম। বিশেষ করে যেসব আমল সম্পর্কে হাদিসে মুখে উচ্চারণের নির্দেশনা এসেছে, সেগুলো সম্ভব হলে সে অনুযায়ী আদায় করা উচিত।

অর্থাৎ, ব্যস্ততা বা এমন কোনো পরিস্থিতিতে মুখে উচ্চারণ করা সম্ভব না হলেও আল্লাহকে অন্তরে স্মরণ করা থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই। সুযোগ থাকলে মুখে জিকির ও দরুদ পড়ার অভ্যাসও বজায় রাখা উচিত।

তথ্যসূত্র: সুরা আহজাব: ৫৬; সহিহ মুসলিম: ৪০৮; সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭৫; মিরকাতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাত: ৪/১৫৫১

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর