পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা ইয়েমেনের হুথিদের একটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনবিষয়ক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি প্রতিহত করা হয়। বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মক্কার দিকে ড্রোন পাঠানো একটি ‘রেড লাইন’। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জোট দ্বিধা করবে না।
জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কাকে লক্ষ্য করে এমন হামলার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কারণ, মক্কা ইসলামের পবিত্রতম নগরী এবং ওহি নাজিলের স্থান। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এই নগরীর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কায় আসেন।
আরও পড়ুন: হুথিদের টার্গেটে মক্কাসহ তিন শহর, ‘সংকটে’ বন্ধু খুঁজছে সৌদি
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে মক্কার দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করেছিল বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কোয়ালিশন। ওই সময় তায়েফ প্রদেশের আল-ওয়াসলিয়া এলাকার ওপর ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়। ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফের বেসামরিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। এ ছাড়া সাতটি আবাসিক বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত সপ্তাহের আরেক দফা হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এদিকে গত শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে একাধিক ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। ওই হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
সূত্র: আরব নিউজ




