শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভিক্ষুককে বিরক্তির ভাষায় ফিরিয়ে দিলে গুনাহ হবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ভিক্ষুককে বিরক্তির ভাষায় ফিরিয়ে দিলে গুনাহ হবে?

রাস্তায় চলতে গিয়ে, বাজারে কিংবা দোকানের সামনে প্রায়ই ভিক্ষুক বা সাহায্যপ্রার্থী মানুষের দেখা মেলে। কেউ অর্থ চান, কেউ খাবার। কখনো একই ব্যক্তি বারবার সাহায্য চাইলে অনেকেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। কেউ কঠিন কথা বলেন, কেউ ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

অথচ সাহায্যপ্রার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইসলামের রয়েছে কিছু আদব।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘ভিক্ষুককে ধমক দেবেন না।’ (সুরা দুহা: ১০)

আয়াতটি সাহায্যপ্রার্থীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের শিক্ষা দেয়। কাউকে কিছু দিতে না পারা এক বিষয়, আর সেই কারণে তাকে অপমান করা বা কষ্টদায়ক কথা বলা অন্য বিষয়।

দিতে না পারলেও সুন্দর কথা

সবসময় কাউকে সাহায্য করা সম্ভব হয় না। নিজের সামর্থ্য না থাকলে কাউকে কিছু না দেওয়াও স্বাভাবিক। তবে তাই বলে বিরক্তি প্রকাশ করা বা অপমানজনক কথা বলা ঠিক নয়।

আল্লাহ বলেন, ‘যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় তার চেয়ে ভালো কথা ও ক্ষমা উত্তম।’ (সুরা বাকারা: ২৬৩)

অর্থাৎ দিতে না পারলেও ভালোভাবে কথা বলা যায়। নিজের অসামর্থ্যের কথা জানিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বিদায় দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ভিক্ষুকের সালামের জবাব দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

সামান্য দানও মূল্যবান

সামর্থ্য থাকলে অল্প হলেও সাহায্য করার প্রতি ইসলাম উৎসাহ দিয়েছে। ভিক্ষুককে দেওয়ার মতো কিছু না থাকলে সামান্য কিছু হলেও তাকে দেওয়ার কথা বলেছেন নবীজি (স.)। তিনি বলেন, ‘যদি তুমি (পশুর পায়ের) একটি ক্ষুর (খুবই সামান্য জিনিস) ছাড়া তাকে দেওয়ার মতো আর কিছু না পাও তবে তাই তার হাতে তুলে দাও।’ (সুনানে তিরমিজি: ৬৬৫)

এ থেকে বোঝা যায়, সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প দানকেও তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়।

সবাইকে সন্দেহের চোখে নয়

কেউ সত্যিই অসহায় কি না, আবার কেউ ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে কি না, তা সবসময় বোঝা যায় না। তাই কাউকে সন্দেহ করে অপমান করা ঠিক নয়।

সাহায্য করবেন কি না, সেটি নিজের বিবেচনার বিষয়। কিন্তু সাহায্য না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে জুড়ে দেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন: যতটুকু সম্পদ থাকলে ভিক্ষা করা যাবে না

ফিরিয়ে দেওয়ার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ

একজন মানুষ হয়তো আপনার কাছে সামান্য কিছু চাইতে এসেছেন। আপনি দিতে পারলেন না। এতটুকুতেই বিষয়টি শেষ হতে পারে। কিন্তু তাকে কীভাবে ফিরিয়ে দিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই সামর্থ্য থাকলে সাহায্য করুন। না পারলে বিনয়ের সঙ্গে বিদায় দিন। এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন, যা তার অভাবের কষ্টের সঙ্গে অপমানের কষ্টও বাড়িয়ে দেয়।

ইসলাম দানের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে, একই সঙ্গে সাহায্যপ্রার্থীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতেও শিক্ষা দিয়েছে। তাই কিছু দিতে না পারলেও মানুষটিকে ছোট না করাই ইসলামের সৌন্দর্য।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর