আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির প্রথম রাতেই পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হবে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)। সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) এশার নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে শুরু হবে এ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক আয়োজন, যেখানে পরিবর্তন করা হবে কাবার পুরোনো গিলাফ।
প্রতি বছরের মতো এবারও অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন কিসওয়া। এটি তৈরিতে সময় লেগেছে প্রায় ১১ মাস।
বিজ্ঞাপন
নতুন কিসওয়া ৪৭টি বিশুদ্ধ রেশমের প্যানেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে সোনালি ও রূপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে সূচিকর্মের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত খচিত রয়েছে। পুরো গিলাফের মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কেজি।
আরও পড়ুন: কাবা বায়তুল্লাহ: আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন
কিসওয়া প্রস্তুত ও মান নিয়ন্ত্রণের সব ধাপ তত্ত্বাবধান করেছে মক্কায় অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া।

বিজ্ঞাপন
কাবার গিলাফ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সাতটি ধাপে। প্রথমে রেশম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এরপর রেশম ধোয়া ও রং করা, তাঁতে বয়ন করে কাপড়ে রূপ দেওয়া, কুরআনের আয়াত ও অলংকারিক নকশা মুদ্রণ, বিভিন্ন অংশ সংযুক্ত করে সেলাই, সোনা ও রূপার প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে সূচিকর্ম এবং সর্বশেষ ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিসওয়ার পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করা হয়।
কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বিশুদ্ধ রেশম, রূপা, সোনার প্রলেপযুক্ত রূপার সুতা ও তুলা।

বছরের পর বছর ধরে প্রচলিত ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতি হিজরি বছরের প্রথম দিন (১ মুহাররম) পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।
পবিত্র কাবার কিসওয়া পরিবর্তনের এ আয়োজন বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর কোটি কোটি মুসলমান এ পবিত্র আয়োজন গভীর আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেন এবং নতুন বছরের সূচনায় কাবার নতুন সাজকে স্বাগত জানান।




