বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় কী

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় কী

ঈদ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদের নামাজ। ইসলামি শরিয়তে ঈদের দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব। তবে কোনো কারণে যদি কেউ ঈদের নামাজ বা অতিরিক্ত তাকবিরগুলো না পান, তাহলে কী করবেন- এ বিষয়ে ফিকহের কিতাবগুলোতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা রয়েছে।

ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবিরের বিধান

ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবির বলা ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও ছানার পর তিন তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে তিন তাকবির বলতে হয়। প্রতিটি তাকবিরের সময় হাত উঠাতে হয়।
কেউ যদি জামাতে শরিক হওয়ার পর দেখেন ইমাম ইতিমধ্যে তাকবির বলে ফেলেছেন, তাহলে-
ইমাম কিরাতে থাকলে: নিয়ত বেঁধে সাথে সাথে মনে মনে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে নেবেন, হাত উঠানোর প্রয়োজন নেই।
ইমামকে রুকুতে পেলে: রুকু অবস্থায় হাত না উঠিয়ে মনে মনে তাকবিরগুলো বলে নেবেন। তবে ইমাম রুকু থেকে উঠে গেলে আর তাকবির বলতে হবে না।
(ফতোয়া শামি: ১/৫৫৯-৫৬০)

আরও পড়ুন: ঈদের নামাজ কীভাবে পড়বেন, জানুন নিয়ম ও মাসয়ালা

এক রাকাত ছুটে গেলে করণীয়

যদি কারো প্রথম রাকাত ছুটে যায় এবং দ্বিতীয় রাকাতে জামাতে শরিক হন, তাহলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়বেন। কিরাত শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। প্রতিটি তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন। তৃতীয় তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিয়ে চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যাবেন। (ফতোয়া শামি: ১/৫৫৯)


বিজ্ঞাপন


পুরো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

যদি কারো পুরো ঈদের জামাত ছুটে যায়, তাহলে প্রথমে শহরের অন্যকোনো ঈদগাহ বা মসজিদে জামাত পাওয়া যায় কি না তা খুঁজতে হবে। সম্ভব হলে সেই জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
তবে অন্যকোনো জামাতও না পাওয়া গেলে মনে রাখতে হবে ঈদের নামাজের কোনো কাজা নেই এবং একা একা ঈদের নামাজ আদায় করারও নিয়ম নেই। (ফতোয়া শামি: ১/৫৬১)

জামাত না পেলে কী পড়বেন?

ঈদের জামাত না পেলে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব। এই নামাজে ঈদের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলা যাবে না। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়িউস সানায়িতে উল্লেখ আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন- ‘যার ঈদের নামাজ ছুটে যাবে, সে যেন চার রাকাত নামাজ পড়ে।’ (বাদায়েউস সানায়ি: ১/২৭৯; আল-বিনায়া: ৩/১৩৯)

আরও পড়ুন: ঈদের খুতবায় কতবার 'আল্লাহু আকবার' বলতে হয়

ঈদের নামাজে আজান-ইকামত নেই

ঈদের নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, সাধারণত তাদের ওপরই ঈদের নামাজ ওয়াজিব হয়। (সহিহ বুখারি: ১/১৩১)

ঈদগাহে নামাজের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (স.) খোলা ময়দানে বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। তাই খোলা স্থানে ঈদের নামাজ পড়া উত্তম। তবে প্রয়োজনে মসজিদেও আদায় করা জায়েজ। (ফতোয়া শামি: ১/৫৫৫-৫৫৭; আল-মুহাজ্জাব: ১/৩৮৮)

খুতবা শোনা ওয়াজিব

ঈদের নামাজ শেষে ইমামের জন্য খুতবা দেওয়া সুন্নত এবং মুসল্লিদের জন্য তা মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। খুতবার সময় কথা বলা বা উঠে চলে যাওয়া অনুচিত। (ফতোয়া শামি: ১/৫৬০; হেদায়া: ২/৭১)

তাই ঈদের জামাতে সময়মতো উপস্থিত হওয়া ও অতিরিক্ত তাকবিরসহ নামাজ সঠিকভাবে আদায়ের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। তারপরও কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করাই উত্তম।

সহিহ বুখারি: ১/১৩১; ফতোয়া শামি: ১/৫৫৫-৫৬১; বাদায়েউস সানায়ি: ১/২৭৯; আল-বিনায়া: ৩/১৩৯; আল-মুহাজ্জাব: ১/৩৮৮; হেদায়া: ২/৭১

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর