বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঈদের নামাজ কীভাবে পড়বেন, জানুন নিয়ম ও মাসয়ালা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদের নামাজ কীভাবে পড়বেন, জানুন নিয়ম ও মাসয়ালা

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ইবাদত ও উৎসব। এই দিনে দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজের পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক মাসয়ালাগুলো সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি।

ঈদের নামাজের হুকুম ও সময়

যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ আদায় করাও ওয়াজিব। (সহিহ বুখারি: ১/১৩১, ফতোয়া শামি: ১/৫৫৫)
সময়: সূর্য উদিত হয়ে এক নেজা বা আনুমানিক ১০-১৫ ফিট উপরে ওঠার পর থেকে দ্বিপ্রহর (জাওয়াল) পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময় থাকে। তবে ঈদুল আজহার নামাজ দ্রুত আদায় করা সুন্নত, যাতে দ্রুত কোরবানি সম্পন্ন করা যায়। (ফাতহুল কাদির: ২/৭৩)

নামাজের নিয়ত

নিয়ত মূলত অন্তরের সঙ্কল্প। মনে মনে এই ইচ্ছা করাই যথেষ্ট যে, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে ইমামের পেছনে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি।’ (ফতোয়া শামি: ১/৫৬০) তবে কেউ চাইলে মুখে আরবি বা বাংলায় নিয়ত উচ্চারণ করতে পারেন।

আরও পড়ুন: চাঁদরাতে ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত বিস্ময়কর


বিজ্ঞাপন


ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

ঈদের নামাজ দুই রাকাত এবং এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা ওয়াজিব।
প্রথম রাকাত
১. স্বাভাবিক নামাজের মতোই ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধবেন এবং ছানা (সুবহানাকা...) পাঠ করবেন।
২. এরপর অতিরিক্ত ৩টি তাকবির বলতে হবে। প্রথম দুই তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন এবং তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বেঁধে ফেলবেন।
৩. এরপর ইমাম সাহেব আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মেলাবেন। বাকি অংশ সাধারণ নামাজের মতোই সম্পন্ন করবেন।

দ্বিতীয় রাকাত
১. ইমাম সাহেব প্রথমে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পাঠ করবেন।
২. কেরাত শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩টি তাকবির দিতে হবে। প্রতি তাকবিরের সময় হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন।
৩. এরপর চতুর্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যাবেন। বাকি নামাজ শেষ করে সালাম ফেরাবেন।

আরও পড়ুন: কোরবানির ৩ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জানুন

গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসয়ালা

তাকবির ছুটে গেলে: যদি কেউ রুকুতে গিয়ে অতিরিক্ত তাকবিরের কথা মনে করে, তবে রুকুতে থাকা অবস্থায় হাত না উঠিয়ে মনে মনে তাকবিরগুলো বলে নেবে। রুকু থেকে উঠে গেলে তাকবির বলার সুযোগ নেই। (ফতোয়া শামি: ১/৫৫৯)
খুতবা শোনার বিধান: ঈদের নামাজের পর ইমাম সাহেবের জন্য দুটি খুতবা দেওয়া সুন্নত এবং মুসল্লিদের জন্য তা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া নিষেধ। (হেদায়া: ২/৭১)
দেরিতে শরিক হলে: কেউ যদি এক রাকাত পূর্ণ হওয়ার পর জামাতে শরিক হয়, তবে সে নিজের বাকি রাকাতের কিরাত শেষ করার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩ তাকবির আদায় করে নেবে।

ঈদের দিনের সুন্নাত ও মোস্তাহাব আমল

১. ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াকসহ গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত।
২. সাধ্যমতো উত্তম, পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।
৩. ঈদুল আজহার নামাজের আগে কিছু না খাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) নামাজ শেষে কোরবানির গোশত থেকে আহার করতেন। (জামে তিরমিজি: ৫৪২)
৪. সামর্থ্য থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম।
৫. ঈদগাহে এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসা মোস্তাহাব।
৬. ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ পাঠ করা সুন্নত। (ইবনে মাজাহ: ৯২)
৭. আবহাওয়া ও সুযোগ অনুকূলে থাকলে খোলা ময়দান বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা উত্তম।
৮. ঈদের দিন হাসিমুখে কথা বলা, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলা মোস্তাহাব।

ঈদুল আজহার নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মাধ্যম। নামাজের নিয়ম ও সুন্নতগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইবাদতকে সার্থক করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ আদায় ও কোরবানির তাওফিক দান করুন। আমিন।

সহিহ বুখারি: ১/১৩০-১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ও ফতোয়া শামি: ১/৫৫৫-৫৬০; ফাতহুল কাদির: ২/৭৩; হেদায়া: ২/৭১; জামে তিরমিজি: ২/১০২; ইবনে মাজাহ: ৯২

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর