কোরবানির পশু কেনার পর অনেকেই সেটিকে সুন্দর ও পরিষ্কার রাখার জন্য লোম ছাঁটেন কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশ পরিচর্যা করেন। তবে কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুর সৌন্দর্য ও পূর্ণতা নষ্ট হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পশুর শরীরের কোনো অংশ কেটে ফেলা বা আলাদা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু বিধিসম্মত, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে।
অপ্রয়োজনে লোম বা অঙ্গ ছাঁটা মাকরুহ
ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির পশুকে অক্ষত ও ত্রুটিমুক্ত রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে উত্তম। তাই অপ্রয়োজনে পশুর লোম কাটা, পশম ছাঁটা বা শরীরের কোনো অংশ আলাদা করা মাকরুহ। বিখ্যাত ফিকহগ্রন্থ ফতোয়ায়ে শামিতে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর লোম কাটা বা শরীরের অংশ ছাঁটা মাকরুহ। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যদি কেউ তা করে ফেলে, তবে সেই পশমের বাজারমূল্য সদকা করার কথা উল্লেখ করেছেন ফকিহরা। (খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩১১) একইভাবে ফতোয়ায়ে আলমগিরিতেও উল্লেখ আছে, কোরবানির পশুর দুধ দোহন করা বা লোম কেটে ফেললে তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে। (খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩০০)
আরও পড়ুন: কোরবানির সময় পর্যন্ত পশুর যত্ন নেওয়ার ফজিলত
ত্রুটিযুক্ত করা শরিয়তসম্মত নয়
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির পশুর ত্রুটির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘চার ধরনের পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়: স্পষ্ট কানা, প্রকাশ্য অসুস্থ, স্পষ্ট খোঁড়া এবং এমন দুর্বল পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৮০২, সুনানে তিরমিজি: ১৪৯৭) এ হাদিসের আলোকে ফকিহরা বলেন, পশুর মধ্যে স্পষ্ট ত্রুটি সৃষ্টি হয় কিংবা তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়—এমন কিছু করা শরিয়তসম্মত নয়।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসার প্রয়োজনে বিধান শিথিল
পশুর শরীরে ক্ষত হলে কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে পশম কাটার প্রয়োজন পড়লে তা জায়েজ। শরিয়ত পশুর সুস্থতা ও কল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পশম কাটলে কোনো গুনাহ হবে না এবং কোনো কিছু সদকাও করতে হবে না।
আরও পড়ুন: জবাইয়ের আগে পশু কান্না করে কেন
ভুলবশত কেটে ফেললে করণীয়
কেউ না বুঝে বা ভুলবশত কোরবানির পশুর লোম কেটে ফেললে বা ছাঁটাই করলে কোরবানি বাতিল হবে না। তবে হানাফি ফকিহদের মতে, কাটা অংশের আনুমানিক মূল্য গরিবদের সদকা করে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে করে ওই কাজের ত্রুটি থেকে ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায়।
কোরবানির পশুর যত্ন ইবাদতের অংশ
আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশুর যত্ন নেওয়া তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এগুলোর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭) তাই পশুকে উত্তম খাবার দেওয়া, কষ্ট না দেওয়া এবং অহেতুক কাটাছেঁড়া থেকে বিরত থাকাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন।




