আজ মধ্যপ্রাচ্যে আরাফাহ দিবস পালিত হচ্ছে দেখে অনেকে ভাবছেন, আরাফার রোজা বুঝি আজই রাখতে হবে; আর না রাখতে পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কিন্তু এই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল বুধবার ২৭ মে ৯ জিলহজ, তাই আমাদের জন্য আরাফার রোজা হবে আগামীকাল।
ইয়াওমে আরাফা মানে ৯ জিলহজ, কোনো নির্দিষ্ট স্থানের ঘটনা নয়
নির্ভরযোগ্য ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইয়াওমে আরাফা একটি নির্দিষ্ট তারিখের নাম; জিলহজের ৯ তারিখ। এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। যেমন ইয়াওমুন নাহার বা কোরবানির দিন হলো ১০ জিলহজ এবং হাদিস অনুযায়ী আরাফার দিনের ঠিক পরদিনই কোরবানির দিন; মাঝে কোনো বিরতি নেই। তাই সৌদির অনুসরণে কেউ আরাফার দিন পালন করলে যদি দেখা যায় যে তার আরাফা ও কোরবানির মধ্যে একদিনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, তাহলে সেটি হবে ইজমার পরিপন্থী।
আরও পড়ুন: আরাফার রোজা সৌদির হিসাবে রাখবেন নাকি বাংলাদেশের?
স্থানীয় চাঁদের হিসাবই শরিয়তসম্মত
ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালনের নির্দেশনা রয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে (১০৮৭) ইবনে আব্বাস (রা.) স্পষ্ট করেছেন, প্রতিটি জনপদ নিজের চাঁদ দেখা অনুযায়ী আমল করবে এবং এটিই রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশ। বিখ্যাত ফিকহগ্রন্থ আলবাহরুর রায়েক, রদ্দুল মুহতার, আহসানুল ফতোয়া এবং ফতোয়ায়ে উসমানিতেও এই মত সমর্থিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের মুসলমানরা সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুসরণ করে রোজা রাখলে আরাফার রোজা বিবেচিত হবে না।
বিজ্ঞাপন
আরাফার রোজার ফজিলত
আরাফার রোজার ফজিলত অপরসীম। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
আরও পড়ুন: আরাফার দিন যে দোয়া পড়তে ভুলবেন না
এ দিনটি আরও বিশেষ কারণে মর্যাদাপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।’ (সহিহ মুসলিম)
আলেমরা বলেন, এ দিনে রোজার পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া, জিকির, তওবা-ইস্তেগফার ও দান-সদকায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। আরাফাহ দিবসের সর্বোত্তম দোয়া হিসেবে হাদিসে এসেছে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই'ইন কাদির।’
যারা আজ রোজা রাখতে পারেননি, তারা হতাশ হবেন না। আজ রাতে সাহরি খেয়ে আগামীকাল বুধবার রোজার নিয়ত করুন। বছরের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।




