শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। আগামীকাল রোববার (২৪ মে) রাত থেকেই হাজিরা ছুটবেন মক্কার অদূরে মিনা প্রান্তরে। সেখানে সোমবার দিনভর তাঁবুতে অবস্থান করবেন তারা। আগামী মঙ্গলবার সেখান থেকে হাজিরা যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে মসজিদে নামিরায় দেওয়া হবে হজের খুতবা। এটাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দিনভর অবস্থান শেষে হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়। রাত কাটিয়ে মিনায় আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা সেরে বায়তুল্লাহ তওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন হজের সব কর্মসূচি।
এদিকে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও হজের সময় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মিনা ও মুজদালিফায় তাপমাত্রা বাড়ছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মিনা ও মুজদালিফা উভয় স্থানেই তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং বাতাসের গতি সীমিত থাকলে দুপুরের দিকে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হজের গুরুত্বপূর্ণ দুই স্থান মিনা ও মুজদালিফায় বর্তমানে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বাতাসের গতি কমে গেলে দুপুরের দিকে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুতি জোরদার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত গরমের সময় বাইরে না যাওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া তাঁবুর বাইরে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হজযাত্রীদের ছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সব নির্দেশনা ও প্রশাসনিক গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র গরম ও ধূলিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, নাজরান, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত, আল-জৌফ ও তাবুকের কিছু এলাকায় ধূলি ও বালুঝড়ের সঙ্গে শক্তিশালী বাতাস বইতে পারে। এছাড়া জাজান, আসির, আল-বাহা এবং মক্কার পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু অংশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মক্কা-মদিনাসহ হাজিদের চলাচলের প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলা আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকলেও তাপমাত্রা বেড়ে তীব্র গরমের দিকে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুসারে, মক্কায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা থাকবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এবং খোলা এলাকায় ধুলোময় বাতাস বইবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, হাজিদের উদ্দেশে আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে, যাত্রার আগে যানবাহন ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়া।
এবার হজে মক্কায় অন্তত ১৬ লাখ হাজির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে আবহাওয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হাজিদের সতর্ক থাকার এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কয়েক বছর হজে গরমে প্রাণহানির ঘটনার পর গত বছর সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের হজ ছিল শেষ গ্রীষ্মকালীন হজ। এরপর টানা ২৫ বছর হজ অনুষ্ঠিত হবে ঠান্ডা বা তুলনামূলক আরামদায়ক মৌসুমে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত হজ পড়বে বসন্তকালে, অর্থাৎ সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে। এরপর ২০৩৪ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত হজ অনুষ্ঠিত হবে শীতকালে—যা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এরপর ২০৪২ থেকে ২০৪৯ সাল পর্যন্ত হজ হবে শরৎকালে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে। সবশেষে, ২০৫০ সালে হজ আবার গ্রীষ্মকালে ফিরে আসবে, এবং তা অনুষ্ঠিত হবে আগস্ট মাসে।
এনসিএম এর ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের হজ অনুষ্ঠানের সময় আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত গরম। এই গরমকালীন পরিস্থিতি শেষ। এরপর থেকে হজযাত্রীরা ঠান্ডা ও সহনীয় আবহাওয়ায় হজ পালনের সুযোগ পাবেন, যা বৃদ্ধ, অসুস্থ বা দুর্বল মুসলিমদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। তবে সেই পূর্বাভাস পুরোপুরি কাজে আসেনি। এবারও হজযাত্রীদের গরমের দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেবি




