শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হজযাত্রীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও করণীয়

মাওলানা আব্দুল গাফফার খান
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

hajj
শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। ছবি: সংগৃহীত

শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের মৌসুম। বাংলাদেশ থেকে এবার যারা আল্লাহর ঘর জিয়ারতে যাচ্ছেন তাদের ফ্লাইট আজ রাতেই শুরু হচ্ছে। হজে গমনেচ্ছুদের জন্য মাসয়ালা-মাসায়েল জানা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেকেই হজের প্রধান দোয়া তালবিয়াই ঠিকমতো বলতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো—প্রশিক্ষণে হাজিদের অনীহা। তারা মনে করেন প্রশিক্ষণে কেবল সাধারণ কিছু কথা বলা হয়, তাই তারা আসতে চান না। ফলে সৌদিতে গিয়ে পদে পদে বিপদে পড়েন।

তারা বিমানে কী নেওয়া যাবে আর কী নেওয়া যাবে না—তা জানেন না। ফলে বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যাগ তল্লাশিতে পান, জর্দা, গুল বা সিগারেট পাওয়া যায়, যা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। এছাড়া ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা নিয়ম মানেন না। প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ নেওয়ায় সেগুলো বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়। পরে সৌদি আরবে গিয়ে ১০-১৫ গুণ বেশি দামে ওষুধ কিনতে হয় তাদের।


বিজ্ঞাপন


এজন্য প্রত্যেক হাজির উচিত তাদের এজেন্সির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণগুলোতে অবশ্যই অংশ নেওয়া। এছাড়া নিজ এলাকার ইমাম বা খতিবদের কাছ থেকে হজের প্রাথমিক নিয়মগুলো আগেভাগেই জেনে নেওয়া।

আরও পড়ুন

হজযাত্রীদের জরুরি নির্দেশনা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

হজ ফ্লাইটে টিকিটপ্রতি খরচ কমল ১২ হাজার টাকা

অনেকেই গাইডদের কাজ সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। তারা মনে করেন গাইড তাদের সকল কাজ করে দেবেন। আসলে গাইডের কাজ হলো, দিকনির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু তারা নিয়ম না জানার কারণে শেষ মুহূর্তে এমন সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাৎক্ষণিকভাবে মেটানো সম্ভব নয়। ফলে অনেক সময় অনেকের হজ আদায় করাই সম্ভব হয় না।

এখনকার সময়ে হাজি সাহেবদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘নুসুক কার্ড’। এই কার্ড সৌদি আরব গিয়ে হাজি সাহেবদের পেতে অনেক কষ্ট হয়। তাই এ বছর এই নুসুক কার্ডটি বাংলাদেশেই হাজিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হাজি সাহেবদের কাছে নুসুক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এ-বছর এটা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যে, সৌদি আরবের কাজ আমরা বাংলাদেশেই সম্পন্ন করতে পারছি। ফলে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে কোথাও কোনো পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হবে না। সবকিছু অনলাইন করা থাকবে।


বিজ্ঞাপন


Biman
প্রথম ফ্লাইটে যাবেন চার শতাধিক যাত্রী। ছবি: সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে হাজিদের প্রথম কাজ হলো শারীরিক চেকআপ করিয়ে নেওয়া। কোনো অসুস্থতা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, এজেন্সির সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখা। সফরের জন্য তার কী কী প্রয়োজন, এজেন্সি তাকে বলে দেবে। এবং আনুমানিক খরচ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা উচিত। যাতে সেখানে গিয়ে ঋণ করতে না হয়।

তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় মালপত্রের একটি তালিকা করে সেগুলো ব্যাগে ঠিকঠাক নিয়েছে কি না তা মিলিয়ে নেওয়া। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখা এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। আল্লাহ যেন তাকে মেহমান হিসেবে কবুল করেন এবং ‘হজ্জে মাবরুর’ নসিব করেন। এবং সফরের আগে দেশের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ছোটাছুটি থেকে নিজেকে বিরত রাখা উচিত।

আরও পড়ুন

হজ নিয়ে সৌদির নতুন সিদ্ধান্ত

মকবুল হজের জন্য যেসব শর্ত ও মাসয়ালা জানা জরুরি

আর এজেন্সির মালিক বা গাইডের দায়িত্ব হলো হাজি সাহেবকে সফরের আগেই সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া। হোটেলগুলোর কী অবস্থা, হোটেল থেকে হারামের দূরত্ব কতটুকু, যাতায়াতে কেমন কষ্ট হতে পারে—এসব বিষয়ে হাজিদের আগেভাগেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করা উচিত। খাবার-দাবার বা অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে হাজিদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত, কোনো কিছু গোপন না রাখা। তাহলে, পরবর্তী সময়ে সমস্যা হবে না। এবং প্রতিটি এজেন্সির উচিত অভিজ্ঞ এবং যোগ্য গাইড নির্বাচন করা। দায়সারাভাবে কাউকে গাইড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশে প্রায় ৮০% এজেন্সিই ভালো এবং তারা নিয়ম মেনেই কাজ করে থাকেন। আশা করি সবাই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।

লেখক: স্বত্বাধিকারী, আল ওয়াসি ট্রাভেলস অ্যান্ড হজ গ্রুপ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর