হজ ও ওমরা পালনের ইবাদত শুরু হয় ‘ইহরাম’ গ্রহণের মাধ্যমে। ইহরাম মূলত এমন এক আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি কিছু হালাল বিষয় নিজের ওপর নিষিদ্ধ করে মহান আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেন। সাধারণ হাজিদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো- ইহরামের কাপড় পরিধান, দুই রাকাত নামাজ আদায় এবং মনে মনে নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু শরিয়তের দালিলিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধারণাটি শরিয়তসম্মতভাবে সঠিক নয়; বরং ইহরাম সম্পন্ন হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন- তা হলো তালবিয়া পাঠ।
ইহরামের বুনিয়াদি শর্ত: নিয়ত ও তালবিয়ার সমন্বয়
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কেবল মনে মনে নিয়ত করার মাধ্যমে ইহরাম সম্পন্ন হয় না। নিয়ত আরবিতে হোক বা মাতৃভাষায়, সশব্দে হোক বা মনে মনে- এটি একা ইহরামের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং নিয়তের পর মৌখিকভাবে ‘তালবিয়া’ (লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…) পাঠ করার মাধ্যমেই ইহরামের বিধিনিষেধ কার্যকরভাবে শুরু হয়।
আরও পড়ুন: হজের নিয়ত কখন কীভাবে করতে হয়?
ফকিহগণের মতে, ইহরাম মূলত দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়ের সমন্বয়-
১. হজ বা ওমরার সংকল্প (নিয়ত): যা অন্তরের কাজ।
২. তালবিয়া পাঠ করা: যা মৌখিক স্বীকৃতির কাজ।
এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া শরিয়তের পরিভাষায় কোনো ব্যক্তি ‘মুহরিম’ হিসেবে গণ্য হন না। (সূত্র: জামে তিরমিজি: ১/১০২; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ৬৫; মানাসিক মোল্লা আলি কারি, পৃ. ৮৯)
বিজ্ঞাপন
মাসয়ালাগত সতর্কতা
অনেকে মনে করেন, নিয়ত করলেই ইহরাম হয়ে গেছে, তাই তারা তালবিয়া পাঠে বিলম্ব করেন। মনে রাখা জরুরি- যদি কোনো ব্যক্তি ইহরামের কাপড় পরেন এবং নামাজও আদায় করেন, কিন্তু নিয়তের পর তালবিয়া পাঠ না করেন, তবে তিনি শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘মুহরিম’ নন। যতক্ষণ না তিনি তালবিয়া পড়বেন, ততক্ষণ তিনি ইহরামের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবেন না এবং তার হজ বা ওমরা পালনের কার্যক্রমও শুরু হবে না।
আরও পড়ুন: নিয়ত করতে ভুলে গেলে হজ সহিহ হবে?
অতএব, হজ বা ওমরা পালনকারীদের জন্য জরুরি হলো- শুধু ইহরামের পোশাক পরিধানেই সীমাবদ্ধ না থেকে মিকাত অতিক্রমের পূর্বেই নিয়তের সাথে যথাযথভাবে তালবিয়া পাঠ করা। এর মাধ্যমেই ইবাদতটি শরিয়তসম্মতভাবে শুরু হয় এবং মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপযুক্ত হয়।




