বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হজের নিয়ত কখন কীভাবে করতে হয়?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

হজের নিয়ত কখন কীভাবে করতে হয়?

হজ ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ। এই মহান ইবাদতের প্রতিটি আমল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যার সূচনা হয় ‘নিয়ত’ বা আন্তরিক সংকল্পের মাধ্যমে। শরিয়তের পরিভাষায় কোনো ইবাদত পালনের দৃঢ় ইচ্ছাকেই নিয়ত বলা হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি)। তাই হজ কবুল হওয়ার জন্য সঠিক নিয়ত ও তার পদ্ধতি জানা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য অপরিহার্য।

হজের নিয়ত কখন করবেন?

হজের নিয়ত করার নির্দিষ্ট সময় ও স্থান রয়েছে। ইহরাম বাঁধা হজের একটি অপরিহার্য অংশ, আর ইহরামের মূল শর্ত হলো নিয়ত ও তালবিয়া।

স্থান: হজের নিয়ত করতে হয় মিকাত (নির্ধারিত সীমানা) অতিক্রম করার আগে। বাংলাদেশ থেকে যারা বিমানে সরাসরি মক্কায় যান, তাদের জন্য মিকাত হলো ‘ইয়ালামলাম’। তাই বিমানে মিকাত অতিক্রমের আগেই ইহরামের কাপড় পরে নিয়ত করে নিতে হয়।

সময়: হজের ধরন অনুযায়ী নিয়তের সময় ভিন্ন হয়। হজে তামাত্তু পালনকারীরা প্রথমে ওমরার নিয়ত করেন এবং পরবর্তীতে ৮ জিলহজ মক্কায় অবস্থানকালে হজের নিয়ত করেন।

হজের নিয়ত কীভাবে করবেন?

নিয়তের মূল স্থান হলো অন্তর। অর্থাৎ মনে মনে এই সংকল্প করা- ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ আদায় করছি।’ তবে মুখে উচ্চারণ করা সুন্নত ও মোস্তাহাব।

হজের প্রকারভেদ অনুযায়ী নিয়তের বাক্য ভিন্ন হয়—

হজে তামাত্তু: বাংলাদেশের অধিকাংশ হাজি এই পদ্ধতিতে হজ পালন করেন। এতে নিয়ত দুই ধাপে হয়- ওমরার জন্য (মিকাতে): ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফায়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।’ হজের জন্য (৮ জিলহজ): ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফায়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।’

হজে কিরান: একই ইহরামে ওমরা ও হজের নিয়ত করা হয়- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ওয়াল হাজ্জা ফায়াসসিরহুমা লি ওয়া তাকাব্বালহুমা মিন্নি।’

হজে ইফরাদ: শুধু হজের নিয়ত করা হয়- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফায়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।’

তালবিয়া পাঠ: নিয়তের পূর্ণতা

নিয়ত করার পরপরই তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে এবং নারীদের জন্য নিম্নস্বরে পাঠ করা উত্তম। তালবিয়ার মাধ্যমে ইহরাম সম্পূর্ণ হয় এবং হজের কার্যক্রম শুরু হয়।

তালবিয়া: ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা-শারিকা লাক।’

গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসয়ালা

ভাষা: আরবিতে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক নয়; নিজের ভাষায় মনে মনে সংকল্প করলেও নিয়ত শুদ্ধ হবে।
ভুলে গেলে: কেউ মুখে নিয়ত বলতে ভুলে গেলেও অন্তরে ইচ্ছা থাকলে এবং তালবিয়া পাঠ করলে নিয়ত সহিহ হবে।
নারীদের জন্য: ঋতুস্রাব অবস্থায় নামাজ ও তাওয়াফ ব্যতীত অন্যান্য হজের কাজ করা জায়েজ।

হজ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়ার এক গভীর আত্মিক যাত্রা। সঠিক নিয়ত ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে হজ আদায় করতে পারলেই তা ‘হজে মাবরুর’ হিসেবে কবুল হয়। আল্লাহ তাআলা সকল হজযাত্রীর নিয়ত ও হজ কবুল করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর