শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রোগীকে আশান্বিত করা মহান ইবাদত

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রোগীকে আশান্বিত করা মহান ইবাদত

অসুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা এবং মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যম। ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ও তার সেবা করাকে ‘ইয়াদাতুল মারিজ’ বলা হয়। তবে শুধু খোঁজ নেওয়াই নয়, রোগীকে মানসিকভাবে শক্তি দেওয়া ও আশান্বিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হতাশা দূর করে আশার সঞ্চার

অসুস্থতার সময় মানুষের মন দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময় মৃত্যুভয় ও সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাকে গ্রাস করে। এ অবস্থায় রোগীকে আশান্বিত করা এক ধরনের সদকা।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘তোমরা যখন কোনো রোগীর কাছে যাবে, তখন তাকে তার জীবন সম্পর্কে আশান্বিত করো। এটি তকদির পরিবর্তন না করলেও তার মনকে প্রফুল্ল করবে।’ (জামে তিরমিজি: ২০৮৭)

আরও পড়ুন: বেশি গুনাহে হতাশ? কোরআনের এই আয়াতগুলো পড়ুন

পবিত্রতার সুসংবাদ

নবীজি (স.) রোগীকে সান্ত্বনা দিতে বলতেন- ‘লা-বা’সা, তাহুরুন ইনশাআল্লাহ।’ অর্থ: কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ এটি তোমার পবিত্রতার কারণ হবে। (সহিহ বুখারি: ৩৬১৬)

এই বাক্যের মাধ্যমে রোগীকে তিনি দুটি বার্তা দিতেন-

এক. এই কষ্ট ক্ষণস্থায়ী

দুই. এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান রয়েছে

মানসিক শক্তি ও সুস্থতার সম্পর্ক

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও রোগীর মানসিক শক্তি তার আরোগ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একটি সুন্নাহ ছিল রোগীর শরীরে মমতাভরে হাত বুলিয়ে দেওয়া এবং তার জন্য দোয়া করা।

প্রখ্যাত সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, নবীজি (স.) তাঁর কপাল ও বুকে হাত রেখে দোয়া করেছিলেন, যার প্রশান্তি তিনি দীর্ঘদিন অনুভব করেছেন। (সহিহ বুখারি: ৫৬৫৯)

আরও পড়ুন: কঠিন রোগ থেকে আজীবন বেঁচে থাকার দোয়া

রোগীর সামনে যা বলা উচিত নয়

রোগীকে আশান্বিত করতে হলে তার সামনে নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন-

  • ‘রোগটা খুব জটিল
  • অমুক এই রোগে মারা গেছে

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘তোমরা যখন রোগীর কাছে যাবে, ভালো কথা বলবে। তোমাদের কথার ওপর ফেরেশতারা আমিন বলেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৯১৯)

রোগীর সেবা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাদিসে এসেছে, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া যেন জান্নাতের বাগানে বিচরণ করার মতো।

তাই আমাদের উচিত রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে সাহস দেওয়া, আশান্বিত করা এবং তার মনে আল্লাহর প্রতি ভরসা জাগিয়ে তোলা- যাতে সে ধৈর্য ধারণ করে এই পরীক্ষাকে সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর