শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

বেশি গুনাহে হতাশ? কোরআনের এই আয়াতগুলো পড়ুন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বেশি গুনাহে হতাশ? কোরআনের এই আয়াতগুলো পড়ুন

মানুষ গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। আল্লাহর বিশেষ বান্দারা ছাড়া প্রত্যেক আদম সন্তান গুনাহ করে। তবে তারাই উত্তম মানুষ, যারা গুনাহের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে, আন্তরিক তাওবা করে। তাওবাকারীকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন, ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (হে রাসুল আপনি) বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো- (তোমরা) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা যুমার: ৫৩)

আয়াতের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তি ঈমান আনে অথবা সত্য হৃদয়ে তাওবা করে সে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হয়ে যাবে, তার পাপ যদি সমুদ্রের ফেনা সমানও হয়, তবুও তা মাফ হয়ে যাবে। গুনাহ হয়ে গেলে সত্ত্বর তাওবা করা আল্লাহর পছন্দের আমল এবং এটি জান্নাতিদের গুণ। আল্লাহ তাআলা বিষয়টি পবিত্র কোরআনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে এভাবে—


বিজ্ঞাপন


‘(ভালো মানুষ হচ্ছে তারা) যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা নিজেদের ওপর নিজেরা জুলুম করে ফেলে, (সঙ্গে সঙ্গেই) তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে যে গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? (তদুপরি) এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের ওপর কখনও অটল হয়ে বসে থাকে না। এই মানুষগুলোর প্রতিদান হবে, আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর (তাদের) এমন এক জান্নাত (দেবেন) যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, সেখানে (নেককার) লোকেরা অনন্তকাল অবস্থান করবে। সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জন্যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কত সুন্দর প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।' (সুরা আল ইমরান: ১৩৫-১৩৬)

আরও পড়ুন: প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

পবিত্র কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘..আল্লাহর করুণা হতে তোমরা নিরাশ হয়ো না, কারণ কাফের ছাড়া কেউই আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৭)

উল্লেখিত আয়াতটি প্রমাণ করছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কঠিন গুনাহের কাজ। এছাড়াও তাওবা করতে দেরি করলে, গুনাহের ওপর অটল থাকলে তাদের তাওবার সুযোগ লাভ হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘..তাওবা (কবুল) তাদের জন্য নয়, যারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলো; সে বলে, আমি এখন তাওবা করছি। এবং তাদের জন্যও নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফের অবস্থায়। এরা তারাই, যাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তির ব্যবস্থা।’ (সুরা নিসা: ১৭-১৮)


বিজ্ঞাপন


অতএব মুমিন মুসলমানের উচিত- অতীতের গুনাহের জন্য দ্রুত তাওবা করা। এমনভাবে তওবা করা যেন তিনি তা কবুল করেন। তওবা কবুল ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। সেগুলো হলো— ১. পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। ২. পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। ৩. ওই পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দয়াময় আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তেগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর