রোববার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সব সমস্যার চাবিকাঠি: যান্ত্রিক জীবনের জট খুলবে যে আমল

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সব সমস্যার চাবিকাঠি: যান্ত্রিক জীবনের জট খুলবে যে আমল

ছুটে চলা পৃথিবী, ক্যারিয়ারের প্রতিযোগিতা, আর্থিক চাপ ও পারিবারিক ব্যস্ততায় আমাদের জীবন যেন ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা অনেক সময় বিচ্যুতিতে জড়িয়ে পড়ি, যা আমাদের আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং জীবনে অস্থিরতা তৈরি করে। এই দূরত্ব ঘুচিয়ে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ এবং জাগতিক সব জট খোলার জন্য ইসলাম আমাদের এক অনন্য ও কার্যকর সমাধান দিয়েছে। সেই আমলটি হলো- ‘ইস্তেগফার’ বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা।

এক আমল, চার সমাধান: একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা

বিখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরী (র.)-এর কাছে একবার চারজন ব্যক্তি চারটি ভিন্ন সমস্যা নিয়ে এলেন- অনাবৃষ্টি, দারিদ্র্য, নিঃসন্তান হওয়া এবং ফসলের অভাব। চমকপ্রদ বিষয় হলো, তিনি চারজনকেই একটিমাত্র আমলের পরামর্শ দিলেন- ‘ইস্তেগফার করো’। তিনি জানতেন, ইস্তেগফার কেবল গুনাহ মাফ করে না, এটি যেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবনের নানামুখী সমস্যার এক ঐশ্বরিক চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া করলে যা পাবেন

আল্লাহর নির্দেশ ও নবীজি (স.)-এর সুন্নাহ

ইস্তেগফার করা আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা বাকারা: ১৯৯)। আমাদের প্রিয়নবী (স.) ছিলেন নিষ্পাপ। তবুও তিনি প্রতিদিন ৭০ বারেরও বেশি ইস্তেগফার করতেন (সহিহ বুখারি: ৬৩০৭)। এটি প্রমাণ করে- ইস্তেগফার কেবল গুনাহ মাফের জন্য নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।


বিজ্ঞাপন


বিপদ থেকে সুরক্ষা ও দুশ্চিন্তা মুক্তি

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা। এর কার্যকর সমাধান রয়েছে ইস্তেগফারে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইস্তেগফারকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেবে, আল্লাহ তাকে সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন, সব সংকট থেকে উদ্ধার করবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন’ (ইবনে মাজাহ: ৩৮১৯)। অর্থাৎ, ইস্তেগফার যেন এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সুরক্ষাকবচ।

আরও পড়ুন: ধৈর্যের মহাপুরস্কার ও অধৈর্যের আক্ষেপ

রিজিকে বরকত ও জাগতিক সমৃদ্ধি

পাপের কারণে অনেক সময় মানুষ তার জন্য বরাদ্দকৃত রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। ইস্তেগফার সেই বন্ধ দরজা খুলে দেয়। কোরআনে আদ জাতির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- তারা তওবা ও ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তাদের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও শক্তি দান করবেন (সুরা হুদ: ৫২)। অর্থাৎ, এটি শুধু আধ্যাত্মিক উন্নতিই নয়, বরং দুনিয়াবি প্রাচুর্যও বয়ে আনে।

আখেরাতে মর্যাদা ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্যতম গুণ হলো- তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে। হাদিসে এসেছে, প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করেন- ‘কে আছে যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি: ১১৪৫)। যারা এই সময় ইস্তেগফারে লিপ্ত থাকে, তারা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করে।

আরও পড়ুন: যে ৬ গুণে ঈমান পূর্ণ হয়

দৈনন্দিন জীবনের সহজ কিছু ইস্তেগফার

ইস্তেগফারের জন্য জটিল দোয়া জানা জরুরি নয়; চলতে-ফিরতে বা জ্যামে বসে নিচের বাক্যগুলো পড়া যায়-

  • আস্তাগফিরুল্লাহ।
  • আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি।
  • আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

ইস্তেগফার মুমিনের জীবনের এক অমূল্য রক্ষাকবচ। এটি যেমন আখেরাতের পাথেয়, তেমনি দুনিয়ার দুশ্চিন্তা ও অভাব দূর করার এক মহৌষধ। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও আমরা যদি ইস্তেগফারকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তবে আমাদের জীবনের বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক দরজাই আবার খুলে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর