শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কার কার ফিতরা আপনাকে আদায় করতে হবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

কার কার ফিতরা আপনাকে আদায় করতে হবে

পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সর্বজনীন করতে ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা আদায় করা সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব। পরিবারপ্রধান হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে নিজের পাশাপাশি অন্যদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায়ের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা ও বিধান নিচে তুলে ধরা হলো-

ফিতরা আদায়ের উদ্দেশ্য

মহানবী (স.) দুটি বিশেষ কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করেছেন। প্রথমত, রমজানের রোজা পালন করতে গিয়ে অবলীলাক্রমে যেসব অশ্লীল বা অর্থহীন কথা ও কাজ হয়ে যায়, তা থেকে রোজাকে পবিত্র করা। দ্বিতীয়ত, ঈদের খুশিতে যেন দরিদ্র ও অভাবী মানুষরা খাবারের সংস্থান করতে পারে। (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৯)

নিজের ও নাবালেগ সন্তানের ফিতরা

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন ব্যক্তি নিজের ফিতরার পাশাপাশি তার নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়স্ক) সন্তানের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন, যদি ওই সন্তানের নিজস্ব নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৩)

আরও পড়ুন: ফিতরা আদায়ের সঠিক সময় ও প্রয়োজনীয় বিধান


বিজ্ঞাপন


নাবালেগ সন্তানের নিজস্ব সম্পদ থাকলে

যদি কোনো নাবালেগ সন্তানের নিজস্ব নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে নিয়ম হলো তার সেই সম্পদ থেকেই ফিতরা আদায় করা। তবে পিতা চাইলে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নিজের সম্পদ থেকেও সন্তানের ফিতরা আদায় করে দিতে পারেন। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৯৯)

স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ফিতরা

স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া পরিবারের কর্তার ওপর বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের নিজেদেরই ফিতরা আদায় করতে হবে। তবে গৃহকর্তা যদি তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করে দেন, তবে তা আদায় হয়ে যাবে। সাহাবি হজরত ইবনে ওমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে ফিতরা প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১০৪৫৫)

আরও পড়ুন: পরিবারের কেউ প্রবাসে থাকলে তার ফিতরার হিসাব কীভাবে হবে? 

নাতি-নাতনির ফিতরা

সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়; এমনকি তাদের বাবা জীবিত না থাকলেও। তবে দাদা যদি তাদের লালন-পালন করেন, তবে উত্তম আমল হিসেবে তিনি তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করে দিতে পারেন। (রদ্দুল মুহতার: ২/৩৬৩)

মায়ের ওপর ফিতরার দায়িত্ব

মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের ফিতরা আদায় করা তাঁর ওপর ওয়াজিব নয়; ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এটি মূলত পিতার দায়িত্ব। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৩)

ফিতরা আদায়ের উত্তম সময়

সদকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বমুহূর্ত। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) লোকজন ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ১৫০৯)

আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ দামের ফিতরা দিলে যে সওয়াব পাবেন

তবে সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে ঈদের কয়েক দিন আগেও ফিতরা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। নাফে (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুয়েকদিন পূর্বেই ফিতরা আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৬০৬) অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি ঈদের দুই-তিন দিন আগেই ফিতরা উসুলকারীর কাছে তা পাঠিয়ে দিতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ৩১৬)

ফিতরা মূলত রোজার ভুলত্রুটির কাফফারা এবং দরিদ্রের ঈদের খাবারের সংস্থান। তাই পরিবারের কর্তার উচিত হিসাব করে সঠিক সময়ে তার ওপর নির্ভরশীলদের ফিতরা আদায় করে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে সদকাতুল ফিতর আদায়ের মাধ্যমে গরিব-অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর