শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রমজানে খিটখিটে মেজাজ? নবীজির শেখানো আমল

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

রমজানে খিটখিটে মেজাজ? নবীজির শেখানো আমল

পবিত্র রমজান ধৈর্য, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। কিন্তু রোজা রেখে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা চা-কফির অভ্যাসের কারণে অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সামান্য কথায় রেগে যাওয়া, অধৈর্য হওয়া বা অন্যের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার প্রবণতাও দেখা যায়।

অথচ ইসলামে রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং রাগ, ক্ষোভ ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করাও রোজার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। রোজা অবস্থায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেলে বা রাগ বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন কিছু কার্যকর আমল করা যায়, যেগুলো নবীজি (স.) শিখিয়ে গেছেন। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো-


বিজ্ঞাপন


১. নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ‘আমি রোজাদার’

রোজা অবস্থায় কেউ ঝগড়া করতে এলে বা রাগের উদ্রেক হলে প্রথমেই নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, আমি রোজা রেখেছি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, রোজা হলো ঢালস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খসুলভ আচরণ না করে। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে বা গালমন্দ করে, তবে সে যেন বলে- ‘আমি রোজাদার, আমি রোজাদার’। (সহিহ বুখারি: ১৮৯৪)

আরও পড়ুন: রোজা রেখে মিথ্যা বলছেন না তো? জেনে নিন ভয়াবহতা

২. শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয় চাওয়া

রাগ ও খিটখিটে মেজাজ অনেক সময় শয়তানের প্ররোচনা থেকে সৃষ্টি হয়। তাই রাগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। এই সময় পড়তে হবে- আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। অর্থ: ‘আমি বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা পড়লে মানুষের রাগ দূর হয়ে যায়। সেটি হলো- আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১৫)

৩. চুপ হয়ে যাওয়া

রাগের সময় মানুষের মুখ থেকে অনেক সময় এমন কথা বের হয়ে যায়, যা সম্পর্ক নষ্ট করে বা গুনাহের কারণ হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে চুপ থাকা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও যখন রাগ আসে, সে যেন চুপ থাকে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২১৩৬)

আরও পড়ুন: সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে কাফফারার নিয়ম কী

৪. শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন করা

রাগের সময় মানুষের স্নায়ু উত্তেজিত থাকে। এ সময় শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করলে অনেক সময় রাগ কমে যায়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও যদি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাগ আসে, তবে সে যেন বসে পড়ে। এতে রাগ না কমলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮২)

৫. অজু করে নেওয়া

রাগ কমানোর আরেকটি কার্যকর আমল হলো ওজু করা। ঠান্ডা পানিতে ওজু করলে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি আসে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তানকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। আগুন নেভাতে পানির প্রয়োজন হয়। তাই তোমাদের কারও রাগ এলে সে যেন অজু করে নেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮৪)

আরও পড়ুন: অজু করে ঘুমানোর বিস্ময়কর ফজিলত

৬. জিকির ও ইস্তেগফার করা

রোজা রেখে অবসর সময়ে বেশি বেশি জিকির ও ইস্তেগফার করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং খিটখিটে ভাব দূর হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ: ২৮)

রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। রাগ, ঝগড়া বা খারাপ আচরণ করলে রোজার সওয়াব কমে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)

তাই রমজানে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ধৈর্য ধারণ করা এবং নবীজি (স.)-এর শেখানো আমলগুলো অনুসরণ করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর