শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রোজা রেখে মিথ্যা বলছেন না তো? জেনে নিন ভয়াবহতা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ এএম

শেয়ার করুন:

রোজা রেখে মিথ্যা বলছেন না তো? জেনে নিন ভয়াবহতা

রমজানের পবিত্র পরিবেশে আত্মশুদ্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সত্যবাদিতা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন তার চরিত্রকে উন্নত করার যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, মিথ্যা সেখানে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

পবিত্র রমজান মাস মূলত সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস। রোজা কেবল ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন নয়, বরং এটি মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তনের এক অনন্য মহড়া। রোজার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অন্তরে ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি জাগ্রত করা। তবে এই মহিমান্বিত ইবাদত পালনরত অবস্থায় মিথ্যা বলা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ এবং তা রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।


বিজ্ঞাপন


তাকওয়া অর্জনে মিথ্যার বাধা

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মিথ্যা ত্যাগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা: ১১৯) মিথ্যা মানুষের অন্তরের পবিত্রতা নষ্ট করে, যার ফলে প্রকৃত তাকওয়া অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। অন্য আয়াতে আল্লাহ মিথ্যুক ও সীমা লঙ্ঘনকারীর পরিণাম সম্পর্কে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পথ দেখান না, যে সীমা লঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদী।’ (সুরা মুমিন: ২৮)

ক্ষুধা-তৃষ্ণা কি তবে অর্থহীন?

রোজা রেখে যারা জবান ঠিক রাখতে পারেন না, তাদের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি (রোজা রেখে) মিথ্যা কথা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)


বিজ্ঞাপন


অর্থাৎ, কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করলেই রোজার লক্ষ্য পূরণ হয় না; বরং জিহ্বা ও আচরণ শুদ্ধ না হলে সেই রোজার ফজিলত ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

আরও পড়ুন: যে আদব মানলেই আপনার রোজা হবে 'জাহান্নামের ঢাল'

মূর্খতাসুলভ আচরণের প্রভাব

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যাচার ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৮৯) রোজার মাধ্যমে যে আত্মিক উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, মিথ্যা বলার মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়।

সওয়াব বনাম মাসয়ালা

ফিকহের বা ধর্মীয় আইনের দৃষ্টিতে রোজা রেখে মিথ্যা বললে রোজা ভেঙে যায় না (অর্থাৎ কাজা বা কাফফারা ওয়াজিব হয় না)। তবে আলেমদের মতে, এতে রোজার সওয়াব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রোজা কেবল একটি অর্থহীন উপবাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে ইবাদত করা হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সেই ইবাদত অবস্থায় আল্লাহর সবচেয়ে অপছন্দনীয় কাজ ‘মিথ্যা’ বলা চরম নৈতিক স্খলন।

সত্যবাদিতার অঙ্গীকার

রোজা আমাদের শেখায় সত্যবাদিতাই হলো সংযমের প্রধান ভিত্তি। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। রমজান মাসে যদি আমরা মিথ্যা ত্যাগের কঠোর সংকল্প না করি, তবে এই ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত হবো।

রোজা কেবল পেট ও লজ্জাস্থানের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং এটি জিহ্বারও নিয়ন্ত্রণ। যে রোজা জিহ্বাকে সত্যে অভ্যস্ত করে না, সেই রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয় না। অতএব, রমজানের এই প্রশিক্ষণকে সার্থক করতে হলে সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং মিথ্যাকে পুরোপুরি বর্জন করা প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রোজার হক আদায় করার এবং সত্যবাদিতায় অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর