বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

কোন কোন আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

কোন কোন আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে?

ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সর্বজনীন করতে এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ইসলামে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। তবে ফিতরা প্রদানের ক্ষেত্রে অনেকে বিভ্রান্তিতে ভোগেন- কাকে ফিতরা দেওয়া যাবে আর কাকে যাবে না? বিশেষ করে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে ফিতরা বণ্টনের শরয়ি বিধান কী- এটি জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরি।

ফিতরার মূল খাত

ইসলামি শরিয়তের নীতিমালা অনুযায়ী, সাদাকাতুল ফিতর প্রদানের মূল খাত হলো জাকাতের নির্ধারিত খাতসমূহ। অর্থাৎ যাদের জাকাত দেওয়া যায়, তাদেরই ফিতরা দেওয়া যাবে। যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার কারণে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত নন, তাদের ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩৬৮)
পবিত্র কোরআনে জাকাত ও ফিতরার খাতের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘মূলত সদকা (জাকাত ও ফিতরা) হলো ফকির, মিসকিন, জাকাতকর্মী, অনুরক্ত ব্যক্তি ও নওমুসলিম, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (ইসলামের সুরক্ষায় নিয়োজিত) ও মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও পরম কৌশলী।’ (সুরা তওবা: ৬০)

আরও পড়ুন: পরিবারের কেউ প্রবাসে থাকলে তার ফিতরার হিসাব কীভাবে হবে?

যাদের ফিতরা দেওয়া যাবে না

শরিয়ত নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফিতরা গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে। যেমন-
১. অমুসলিম বা কাফির ব্যক্তি
২. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক (ধনী ব্যক্তি)
৩. ধনীর নাবালক সন্তান
৪. বনু হাশেমের লোক (মহানবী (স.)-এর বংশধর)
৫. উর্ধ্বতন আত্মীয়: নিজের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং ওপরের স্তরের কেউ।
৬. অধস্তন আত্মীয়: নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং তাদের পরবর্তী বংশধর।
৭. জীবনসঙ্গী: স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবেন না।
৮. নির্মাণ ও দাফন কাজ: ফিতরার টাকা দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা, রাস্তা বা হাসপাতাল নির্মাণ করা কিংবা মৃতের দাফন করা যাবে না। ফিতরা সরাসরি অভাবী মানুষের মালিকানায় পৌঁছে দেওয়া শর্ত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮৮; তাতারখানিয়া: ৩/২০৬; আদ্দুররুল মুখতার: ৩/২৯৪)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ দামের ফিতরা দিলে যে সওয়াব পাবেন

যেসব আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে

উর্ধ্বতন (বাবা-মা) ও অধস্তন (সন্তানাদি) রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য সব অভাবী আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া জায়েজ ও সওয়াবের কাজ। যেমন-

  • আপন ভাই ও বোন
  • ভাতিজা-ভাতিজি এবং ভাগনে-ভাগনি
  • চাচা, ফুফু, মামা ও খালা
  • চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভাইবোন
  • শ্বশুর-শাশুড়ি ও অন্যান্য বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়

(কিতাবুল আছল: ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে: ২/১৬২)

আত্মীয়কে দিলে দ্বিগুণ সওয়াব

অনেকে মনে করেন নিকটাত্মীয়কে ফিতরা দিলে হয়তো সওয়াব কম হবে, কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, অভাবী নিকটাত্মীয়দের দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়-
১. সদকা বা ফিতরা আদায়ের সওয়াব
২. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার (সিলাহ রেহমি) সওয়াব। (সুনানে নাসায়ি: ২৫৮২)

সাদাকাতুল ফিতর সামাজিক সাম্য ও মানবিক সহমর্মিতার এক অনন্য ইবাদত। ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে নিজের দরিদ্র নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া সুন্নাহ ও অধিক সওয়াবের কাজ। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে- ফিতরা এমনভাবে সম্মানজনক উপায়ে প্রদান করতে হবে যাতে অভাবী আত্মীয়ের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়। ফিতরা বণ্টনে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে ঈদের আনন্দ সত্যিকারের অর্থে সর্বজনীন হয়ে উঠবে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর