শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নিয়ত না করলে রোজা হবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

নিয়ত না করলে রোজা হবে?

পবিত্র রমজানের রোজা শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘নিয়ত’ বা সংকল্প। আসলে কোনো ইবাদতই নিয়ত ছাড়া গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্যও নিয়ত থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, রাতে কিংবা সাহরির সময় আলাদাভাবে মুখে নিয়ত করতে ভুলে যান অনেকে। এ অবস্থায় রোজা হবে কি না, তা নিয়ে রোজাদারদের মনে সংশয় তৈরি হয়। শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর সহজ সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো।

নিয়ত মূলত অন্তরের কাজ

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিয়ত অর্থ হলো মনের ইচ্ছা বা সংকল্প। এটি মূলত অন্তরের কাজ, মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যিক নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মনে মনে রোজা রাখার সংকল্প করলেই নিয়ত পূর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং কেউ যদি মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ না-ও করেন, কিন্তু অন্তরে রোজা রাখার ইচ্ছা থাকে, তবে তাঁর রোজা সহিহ হয়ে যাবে। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৩৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৫)

আরও পড়ুন: সাহরি না খেলে রোজা হবে?

সাহরি খাওয়াই কি নিয়ত?

রমজান মাসে রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়াকেই অধিকাংশ ফকিহ ‘কার্যকর নিয়ত’ বলে গণ্য করেছেন। অর্থাৎ, কেউ যদি আলাদাভাবে মুখে কিছু না বলেন, কিন্তু রোজা রাখার সংকল্প নিয়ে সাহরি খেতে ওঠেন এবং খাবার গ্রহণ করেন, তবে তাঁর নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো- সাহরি খাওয়ার সময় মনে মনে রোজা রাখার ইচ্ছা থাকতে হবে। যদি কেউ স্রেফ ক্ষুধা মেটানোর জন্য খায় এবং রোজা রাখার কোনো সংকল্পই না থাকে, তবে তা নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে না। (কিতাবুল ফিকাহ: ১/৮৮১)


বিজ্ঞাপন


নিয়ত করার শেষ সময়

রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত আগের দিন সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু করে পরের দিন দুপুরের আনুমানিক এক ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত (শরিয়তের পরিভাষায় যাকে দাহওয়াতুল কুবরা বলা হয়) করা যায়। তবে শর্ত হলো- সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ত করার আগ পর্যন্ত রোজা পরিপন্থী কোনো কাজ (যেমন পানাহার) করা যাবে না।

অবশ্য ফরজ রোজার নিয়ত রাতেই করে নেওয়া উত্তম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৩; বাদায়েউস সানায়ে: ২/২২৯)। মূলত এই হাদিস দ্বারা রাতে নিয়ত করার ফজিলত ও গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেহেরির সময় আছে ভেবে খেলে রোজা শুদ্ধ হবে?

প্রতিদিনের জন্য আলাদা নিয়ত

যেহেতু রমজানের প্রতিটি রোজা একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, তাই প্রতিদিনের রোজার জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত করা জরুরি। একবার নিয়ত করে পুরো মাস চালানো যায় না। হাদিস মতে, ‘সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি: ১) সোমবারের রোজার নিয়ত রোববার সূর্যাস্তের পর থেকে করা যাবে।

প্রচলিত দোয়া ও তার অর্থ

নিয়ত মুখে বলা বাধ্যতামূলক না হলেও অনেকে আত্মতৃপ্তির জন্য মুখে উচ্চারণ করেন। বহুল প্রচলিত আরবি নিয়তটি হলো- ‘নাওয়াইতু আন আছূমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করো; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

নিয়তের মূল জায়গা হলো অন্তর। মুখে বলতে ভুলে গেলেও যদি মনে রোজা রাখার ইচ্ছা থাকে কিংবা রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়া হয়, তবে রোজা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার সিয়াম সাধনা কবুল করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র: (বুখারি: ১/২; আবু দাউদ: ১/৩৩৩; হিন্দিয়া: ১/১৯৫; রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৪১; বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; কিতাবুল ফিকাহ: ১/৮৮১)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর