শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

হিংসা: আমল ধ্বংসকারী এক নীরব ঘাতক

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

হিংসা: আমল ধ্বংসকারী এক নীরব ঘাতক

মানুষ স্বভাবতই ভালো ও কল্যাণের প্রতি আকৃষ্ট। কিন্তু নফসের তাড়নায় অনেক সময় সে হিংসার মতো মারাত্মক আত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। ইসলামি শরিয়তে ‘হাসাদ’ কেবল চারিত্রিক ত্রুটি নয়; এটি মানুষের কষ্টার্জিত নেক আমল ও ঈমান ধ্বংসকারী এক নীরব ঘাতক।

সাফল্যের মূল চাবিকাঠি আত্মশুদ্ধি

মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সে সফল হয়েছে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা বিনষ্ট করেছে।’ (সুরা শামস: ৯-১০) তাই দুনিয়ার শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য অন্তরকে হিংসামুক্ত রাখা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: অন্যের দোষ গোপন করার পুরস্কার

দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা থেকেই হিংসার জন্ম

হিংসা মূলত দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা থেকে সৃষ্টি হয়। নবী কারিম (স.) বলেন, ‘তোমাদের চেয়ে নিচের অবস্থানে যারা আছে তাদের দিকে তাকাও; তাহলে আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে হবে না।’ (তিরমিজি: ২৫১৩) এই শিক্ষা উপেক্ষা করলেই মনে অসন্তুষ্টি ও হিংসা জন্ম নেয়।


বিজ্ঞাপন


আমল ও ঈমানের ক্ষতি

রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগুন যেমন কাঠকে পুড়িয়ে দেয়, হিংসা তেমনি নেক আমল ধ্বংস করে।’ (আবু দাউদ: ৪৯০৩) এটি আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করে ঈমানকেও দুর্বল করে।  অন্য হাদিসে এসেছে, ‘কারো অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্র হতে পারে না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪৬০৬)

আরও পড়ুন: গিবতের কাফফারা কী

মুক্তির উপায়

তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকা, অন্যের প্রাপ্তিতে ‘মাশাআল্লাহ’ বলা, যার প্রতি হিংসা হয় তার জন্য দোয়া করা, সালাম দেওয়া ও প্রশংসা করা- এসব আমল হিংসামুক্ত থাকতে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

হিংসা মানুষকে মানসিক অশান্তি ও গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাধি থেকে নিজেকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর