নামাজে একাগ্রতা থাকা জরুরি হলেও মানুষ হিসেবে অনেক সময় আমাদের ভুল হয়ে যায়। চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর ভুলবশত দাঁড়িয়ে যাওয়া এমন একটি সাধারণ ভুল। এমন অবস্থায় কী করতে হবে এবং নামাজের শুদ্ধতা নিয়ে ফকিহদের সিদ্ধান্ত কী- তা জানা প্রতিটি মুসল্লির জন্য আবশ্যক।
নামাজ কি আদায় হবে?
জোহরের মতো চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে চতুর্থ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর যদি কেউ ভুলে দাঁড়িয়ে যান এবং সাথে সাথেই ভুল বুঝতে পেরে আবার বৈঠকে ফিরে আসেন, তবে তার নামাজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এই ভুলে নামাজ ভেঙে যায় না; সঠিক পদ্ধতিতে সাহু সেজদা করলেই নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: তৃতীয় রাকাতে ভুলে বসে গেলে করণীয়
সাহু সেজদার আগে পুনরায় তাশাহহুদ পড়ার নিয়ম
বৈঠকে ফিরে আসার পর সেজদায়ে সাহু করার আগে পুনরায় তাশাহহুদ পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে ফিকহি কিতাবগুলোতে দুটি মত পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
পুনরায় তাশাহহুদ পড়া: ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে, বৈঠকে ফিরে আসার পর সাহু সেজদা করার আগে পুনরায় তাশাহহুদ পড়া নিয়মসম্মত। এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এরও অভিমত।
সরাসরি সাহু সেজদা করা: পরবর্তী যুগের অনেক ফকিহ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, বৈঠকে ফিরে আসার পর পুনরায় তাশাহহুদ না পড়ে সরাসরি সাহু সেজদা করে নিলেও নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। অনেক মুফতি এই মতের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন।
অর্থাৎ, কোনো মুসল্লি বৈঠকে ফিরে এসে পুনরায় তাশাহহুদ পড়ে সাহু সেজদা করলে যেমন নামাজ হবে, তেমনি কেউ তাশাহহুদ না পড়ে সরাসরি সাহু সেজদা দিলেও তার নামাজ হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: নামাজে রাকাতের সংখ্যা ভুলে গেলে করণীয়
ফকিহগণের দিকনির্দেশনা
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ‘কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদিনাহ’ কিতাবে বলা হয়েছে, যদি কেউ চার রাকাত পূর্ণ করে তাশাহহুদ পড়ার পর ভুলে দাঁড়িয়ে যান এবং রুকু করার আগেই মনে পড়ায় আবার বসে পড়েন, তবে তিনি বৈঠকের পর সাহু সেজদা করবেন। সাহু সেজদার মাধ্যমে নামাজের যে ত্রুটি হয়েছিল তা দূর হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: নামাজের প্রথম বৈঠকে ভুলে দরুদ পড়লে করণীয়
নামাজ মুমিনের মিরাজ। তাই নামাজের সঠিক নিয়ম ও ফিকহি মাসয়ালা জানা থাকলে ছোটখাটো ভুলেও নামাজ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। নামাজের খুশু-খুযু বজায় রাখতে এবং ভুল হলে তা সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে ইবাদতে প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।
(কিতাবুল আছল: ১/২২৯; আল-হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদিনাহ: ১/১৬০; শরহুল জামিইস সাগির: ১/৩০২; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃষ্ঠা-৫১৯; আল-মুজতাবা, জাহেদি: ১/৩৬৬)

