বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নামাজে সুরা মেলানো: ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

নামাজে সুরা মেলানো: ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

নামাজে কেরাত বা সুরা পাঠ করা নামাজের অন্যতম ফরজ রোকন। ফরজ নামাজে কোরআনের তারতিব বা সুরাসমূহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা মোস্তাহাব। অনেক সময় অজান্তে বা অসতর্কতাবশত আমরা সুরার ধারাবাহিকতা উল্টে ফেলি বা নিয়ম রক্ষা করতে পারি না। এ ক্ষেত্রে নামাজের হুকুম কী এবং সুরা মেলানোর সঠিক নিয়মগুলো কী, তা জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি।

নামাজে সুরা মেলানোর ক্ষেত্রে মৌলিক ৫টি বিষয় খেয়াল রাখলে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।


বিজ্ঞাপন


১. ন্যূনতম তেলাওয়াতের পরিমাণ

নামাজে সুরা মেলানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতি রাকাতে কমপক্ষে ছোট তিন আয়াত পরিমাণ অথবা এমন এক দীর্ঘ আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যা ছোট তিন আয়াতের সমান (কমপক্ষে ৩০ হরফ)। এটি ওয়াজিব পর্যায়ের আমল।

২. সুরার মাঝখানে বিরতি

এক রাকাতে একটি সুরা পড়ার পর পরের রাকাতে মাঝখানে মাত্র একটি সুরা বাদ দিয়ে তৃতীয় সুরাটি পড়া মাকরুহ। যেমন, প্রথম রাকাতে সুরা ‘ফিল’ পড়ার পর দ্বিতীয় রাকাতে মাঝখানের সুরা ‘কুরাইশ’ বাদ দিয়ে সুরা ‘মাউন’ পড়া। তবে যদি মাঝখানে দুই বা ততোধিক সুরা বাদ পড়ে যায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: নামাজের প্রথম ২ রাকাতে ভুলে সুরা না মিলালে নামাজ হবে?

৩. ক্রমিক ধারা বজায় রাখা

কোরআন শরিফে সুরাগুলো যে ক্রমে সাজানো আছে, নামাজেও সেই ক্রম রক্ষা করা উচিত। প্রথম রাকাতে যে সুরা তেলাওয়াত করা হবে, দ্বিতীয় রাকাতে তার পরের কোনো সুরা পড়া সুন্নত। প্রথম রাকাতে পরের কোনো সুরা এবং দ্বিতীয় রাকাতে তার আগের কোনো সুরা পড়া মাকরুহ। তবে ভুলবশত এমনটি করলে সমস্যা নেই।

৪. সুরার মাঝখান থেকে পড়া

বড় কোনো সুরার মাঝখান থেকে কিছু অংশ এক রাকাতে পড়া এবং পরের রাকাতে অন্য কোনো সুরার মাঝখান থেকে পড়া অনুত্তম। তবে পবিত্র কোরআনের যেখান থেকেই তেলাওয়াত করা হোক, নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

৫. সুরার দৈর্ঘ্য ও ধারাবাহিকতা

প্রথম রাকাতে তুলনামূলক বড় সুরা এবং দ্বিতীয় রাকাতে তার চেয়ে ছোট সুরা পড়া উত্তম। এটি নামাজের একটি সুন্দর আদব বা নিয়ম।

আরও পড়ুন: একাকী নামাজে ইকামত দেওয়ার বিধান কী

ভুল হলে করণীয়

উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলোর ব্যত্যয় ঘটলে ইচ্ছাকৃত হলে তা ‘মাকরুহ’ হবে। তবে যদি ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত এমনটি হয়, তাহলে নামাজ নষ্ট হবে না এবং এর জন্য ‘সাহু সেজদা’ও ওয়াজিব হবে না। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সহজভাবে নির্দেশ দিয়েছেন- ‘অতএব কোরআনের যেখান থেকে তোমাদের জন্য সহজ হয়, সেখান থেকেই পাঠ করো।’ (সুরা মুজাম্মিল: ২০)

মূল কথা হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের এই তারতিব বা ধারাবাহিকতা নষ্ট করা অনুচিত। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে নামাজের বড় কোনো ক্ষতি হয় না।

(আল মুহিতুল বুরহানি: ২/৩১০; খুলাসাতুল ফতোয়া: ১/৯৭; আলবাহরুর রায়েক: ২/৯৪; ইলাউস সুনান: ৪/১৪৫)

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর