শীত বড়লোকদের আনন্দের সৃজন। অবশ্য মায়াবি এক ঋতু। ধনবানরা অপেক্ষা করতে থাকে শীতের জন্য। প্রচণ্ড শীতপ্রধান এলাকায় তারা ভ্রমণে যায়। সবুজ শ্যামল এ বাংলাদেশে খুব কমই শীত পড়ে। তবে কিছু যা শীত পড়ে তা-ও হজম করার শক্তি নেই গরিব ও অসহায় মানুষদের। মন ভালো আছে, দ্বীনী চিন্তা রাখে-এমন মানুষই মূলত শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান। আদতে এটি বড় ইবাদত। শীতে অনেক মানুষ মারাও যান। কারণ, শীত নিবারণের মতো প্রস্তুতি তাদের থাকে না। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে কারো শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য থাকে না। তাই তারা পথচেয়ে থাকেন, কখন কে একটি কম্বল নিয়ে ছুটে আসবে। পথচারীদের তো আরও খারাপ অবস্থা। আজ যে কম্বল পায় সে কম্বলে পরের দিন ঘুমুনোর সুযোগ থাকে না। কারণ, সে কম্বল কোথাও রাখারই তো জায়গা নেই। চুরি হয়ে যায়। কেউ নতুন কম্বল ৩০০ টাকার কম্বল ৫ টাকায় বিক্রি করে দেয়। এই তো কষ্টের জীবন। কমলাপুর কিংবা দেশের স্টেশনগুলোতে ওঁত পেতে থাকে একধরনের গরিবি সাজা লোক। তারা কম্বল পেয়েই বিক্রি করে দেন। যাদের ছবি তোলা দরকার তারা সাধারণত সেসব জায়গায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। শীতবস্ত্র বিতরণের বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
অনেক ভালো এলাকাতেও দরিদ্র থাকেন। যেমন উত্তরবঙ্গে শীত একটু বেশি পড়ে। আবার শ্রীমঙ্গলেও বেশি পড়ে। উত্তরবঙ্গে শীতবস্ত্র একটু বেশি বিতরণ করা হয়। সে তুলনায় কিন্তু অনেক কম মৌলভীবাজার কিংবা চায়ের এলাকাগুলোতে বিতরণ করা হয়। এসব দান কখনোই বৃথা যাবে না। মানুষের পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই বড় ইবাদত। একটি প্রাণীর পাশে দাঁড়ালেও আল্লাহ খুশি হন। গর্তে পেশাব পর্যন্ত করতে মানা। সে ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পুণ্য তো অনেক।
বিজ্ঞাপন
নবীজী ইরশাদ করেন, কোনো মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে যতক্ষণ ওই কাপড়ের টুকরা তার কাছে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকবে। (সুনানে তিরমিজি : ২৪৮৪)
আলোচনায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। মারকাযুল ইসলামী, ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ, নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন, বাসমাহ ফাউন্ডেশসহ আরো অনেক সংগঠন মানবতার পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। চোখে পড়ার মতো কাজ করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। আমরা যাদেরকে জেনারেল বলি, তারাও শীতবস্ত্র বিতরণ করে মানবতার পাশে দাঁড়াচ্ছে। যারাই মানবতার পাশে দাঁড়াচ্ছে তাদেরকে অভিনন্দন।
আমাদের প্রিয়নবী সবসময় মানবতার পাশে দাঁড়াবার কথা বলে গেছেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি অন্য মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তায়ালাও তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি অন্য মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলাও তার বিপদ দূর করে দেবেন। (সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৯৩)
নবীজী সা. বলেন, যে মুসলমান বস্ত্রহীন তাকে বস্ত্র দান করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সবুজ বর্ণের পোশাক পরাবেন। খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন, পানি পান করালে জান্নাতের শরবত পান করাবেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৮২)
বিজ্ঞাপন
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বরাবরের মতোই পাশে দাঁড়িয়েছে শীতার্তদের। কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা ও কিশোরগঞ্জে শীতের প্রকোপ অত্যন্ত তীব্র। সারা দেশের পাশাপাশি শীতপ্রবণ এই তিন জেলায় বিশেষভাবে শীত-সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, কুড়িগ্রামের ৫টি স্পটে ২৫০ প্যাকেজ শাল-হুডি, ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১,৩৫০ মোজা-টুপি, ১টি স্পটে ৫০ প্যাকেজ খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এছাড়া এই জেলার হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিল্টার দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৫০ মোজা-টুপি, ২টি স্পটে ১০০ প্যাকেজ শাল-হুডি, ১টি স্পটে ৫০ প্যাকেজ খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
৪ মানবিক প্রকল্প নিয়ে শীতার্তদের পাশে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১৫০০ ঘর দিল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
এখানকার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দেওয়া হচ্ছে গরম পানির ফিল্টার। কিশোরগঞ্জের ৫টি স্পটে ২৫০ প্যাকেজ শাল-হুডি, ২টি স্পটে ১০০ প্যাকেজ খাদ্য, ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১,৯০০ মোজা-টুপি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া এই জেলার হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিল্টার দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের শীতে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫০ হাজার টুপি-মোজা এবং শীতপ্রধান অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ১০ হাজার শাল-হুডি বিতরণ করা হচ্ছে। সেই সাথে মাদরাসা ও হাসপাতালে ২০০ পানির ফিল্টার বিতরণের কাজ চলমান আছে।
শৈত্যপ্রবাহে শীত-প্রধান অঞ্চলের কর্মহারা মানুষের মাঝে ২২.৫ টন জরুরি খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। খাবার প্যাকেজের ভেতর রয়েছে : ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল এবং ৫০০ গ্রাম লবণ।
আলোর যাত্রীদের অভিনন্দন। যারা মানবতার পাশে দাঁড়ান তাদের অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই। বিশেষত প্রিয় ভাই আহমদুল্লাহ দেশের মানুষের ভালোবাসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের প্রতিটি হৃদয়কে মহান আল্লাহ তাআলা মানবতার কল্যাণের জন্য কবুল করুন। আমিন।
লেখক: প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল জান্নাহ রামপুরা ঢাকা

