মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জাহান্নামের ভয়াবহ উপত্যকা ‘হাবহাব’, ঠিকানা হবে যাদের

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

জাহান্নামের ভয়াবহ উপত্যকা ‘হাবহাব’, ঠিকানা হবে যাদের

পরকাল বা আখেরাত হলো জবাবদিহিতার জগত। সেখানে জান্নাত যেমন চূড়ান্ত প্রশান্তির আধার, তেমনি জাহান্নাম হলো শাস্তির কেন্দ্রস্থল। তবে জান্নাতের যেমন মানের দিক দিয়ে ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি জাহান্নামের শাস্তিও সবার জন্য এক নয়। অপরাধের ধরণ ও মাত্রা অনুযায়ী সেখানে রয়েছে শাস্তির ভিন্ন ভিন্ন স্তর। এমনই এক অত্যন্ত ভীতিপ্রদ ও দুর্গম উপত্যকার নাম ‘হাবহাব’। রাসুলুল্লাহ (স.) বিশেষ এক শ্রেণির মানুষের জন্য এই স্থানটির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

হাদিসের সতর্কবার্তা ও পর্যালোচনা

হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন- ‘নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা আছে, যার নাম ‘হাবহাব’। আল্লাহ তাআলার ওপর হক (বা তিনি নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন) যে, তিনি প্রত্যেক হঠকারী অহংকারীকে সেখানে বসবাস করাবেন।’ (সূত্র: তাবারানি, মুজামুল কাবির; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ২০/১৬৭)

উল্লেখ্য, হাদিসটির সনদের মান নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও অহংকার ও হঠকারিতার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কোরআন ও সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট ও কঠোর সতর্কতা রয়েছে, যা এই হাদিসের মূলবক্তব্যকে সমর্থন করে।

আরও পড়ুন: নবীজি যাদের জাহান্নামে দেখেছেন

কোরআনের আলোকে অহংকারের পরিণতি

পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে অহংকারীদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, ‘হাবহাব’ বা এজাতীয় শাস্তির স্থানগুলো মূলত তাদের জন্যই প্রস্তুত। 
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা লুকমান: ১৮) অন্য আয়াতে জালিমদের পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা হজ: ৭১) 

এছাড়াও সুরা ইবরাহিমে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক হঠকারী স্বৈরাচারী (জাব্বার ও আনিদ) ব্যর্থ মনোরথ হলো।’ (সুরা ইবরাহিম: ১৫) এই আয়াতের ‘জাব্বার ও আনিদ’ শব্দটি হাদিসে বর্ণিত শব্দের সাথে হুবহু মিলে যায়।

আরও পড়ুন: জাহান্নামের অভিশপ্ত বৃক্ষ জাক্কুম: এক ফলেই কুপোকাত 

যাদের জন্য অপেক্ষা করছে ‘হাবহাব’

হাদিস ও কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহান্নামের এই দুর্গম উপত্যকা মূলত দুই শ্রেণির অপরাধীর জন্য নির্ধারিত-

১. জাব্বার (স্বৈরাচারী ও দাম্ভিক): যারা ক্ষমতা, পদমর্যাদা বা বিত্তের মোহে অন্ধ হয়ে মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে। যারা শক্তির অপব্যবহার করে অন্যের অধিকার হরণ করে এবং সমাজে ভীতি প্রদর্শন করে।

২. আনিদ (হঠকারী): যারা সত্য জানার পরেও জেদ ও একগুঁয়েমিবশত তা প্রত্যাখ্যান করে। নিজের ভুল বোঝার পরেও যারা হকের সামনে মাথা নত করতে চায় না।

আমাদের করণীয়

ইসলামে বিনয়কে মুমিনের ভূষণ এবং অহংকারকে পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা অহংকারকে নিজের ‘চাদর’ বলে ঘোষণা করেছেন (সহিহ মুসলিম)। তাই যারা দুনিয়াতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেকে বড় মনে করে, পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

পার্থিব ক্ষমতা ও জৌলুস ক্ষণস্থায়ী। ‘হাবহাব’-এর মতো ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের অন্তর থেকে অহমিকা ও হঠকারিতা দূর করতে হবে। সত্যের সামনে বিনয়ী হওয়া এবং সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণই মুক্তির একমাত্র পথ।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর