মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইবাদত পাহাড় সমান হলেও কবুল হবে না যদি এই কাজ না করেন!

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ইবাদত পাহাড় সমান হলেও কবুল হবে না যদি এই কাজ না করেন!

সৃষ্টির আদি থেকে প্রতিটি মুমিনের পরম আরাধ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য লাভ করা। কিন্তু আল্লাহকে পাওয়ার এই পথটি কেমন হবে? অনেকে মনে করেন, অনেক কঠিন সাধনা বা পাহাড়প্রমাণ ইবাদত ছাড়া বোধহয় আল্লাহর সান্নিধ্য সম্ভব নয়। তবে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের বলছে ভিন্ন কথা। আল্লাহকে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ, সুন্দর এবং নিশ্চিত পথ হলো তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ বা ‘ইত্তেবা’।

আল্লাহর ভালোবাসার চাবিকাঠি

সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতটিকে মুফাসসিরগণ ‘আয়াতুল ইমতিহান’ বা পরীক্ষার আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা এখানে স্পষ্টভাবে তাঁর ভালোবাসা পাওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে- ‘বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, কেউ যদি রাসুল (স.)-এর অনুসরণ ছাড়া আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে, তবে তার সেই দাবি ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুন: ইবাদত কবুলের মৌলিক তিন শর্ত

রাসুলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য

রাসুল (স.)-এর অনুসরণ কেন অপরিহার্য, তার ব্যাখ্যায় আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় বলেছেন- ‘যে রাসুলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা নিসা: ৮০)
অর্থাৎ, রাসুল (স.) যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করাই হলো প্রকৃত দ্বীন। যেমনটি সুরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।’ 

ইত্তেবা বা অনুসরণের সুফল

রাসুল (স.)-এর প্রতিটি সুন্নাহর অনুসরণে রয়েছে ইহকালীন বরকত ও পরকালীন মুক্তির নিশ্চয়তা। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিল নিচে দেওয়া হলো-

১. জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যে অস্বীকার করেছে। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করেছে? তিনি বললেন, যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই আমাকে অস্বীকার করল।’ (সহিহ বুখারি: ৭২৮০)

আরও পড়ুন: যেসব সুন্নত জিন্দা করার চেষ্টা করবেন 

২. ঈমানের পূর্ণতা: একজন মানুষের ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি ও পছন্দ রাসুলের আনীত আদর্শের অনুগামী হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার খেয়াল-খুশি ও আকাঙ্ক্ষা আমার আনীত আদর্শের অনুসারী হয়।’ (শারহুস সুন্নাহ: ১০৪)

৩. আমল কবুল হওয়ার শর্ত: আল্লাহকে পাওয়ার জন্য মানুষ অনেক আমল করে, কিন্তু আমলটি যদি নবীর তরিকায় না হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৩৪৩)

রাসুলের অনুসরণ কেন শ্রেষ্ঠ পথ?

সরলতা: ইসলাম একটি সহজ ধর্ম। রাসুলের জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে ইবাদত ও জীবনযাপন অত্যন্ত সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিশ্চয়তা: আল্লাহর পথে চলার জন্য নিজের মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করলে গোমরাহ হওয়ার ভয় থাকে, কিন্তু সুন্নাহর পথে চললে সফলতার শতভাগ নিশ্চয়তা থাকে।

সর্বোত্তম আদর্শ: আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)

আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বড় বড় কঠিন সাধনা নয়, বরং প্রিয়নবীর ছোট ছোট সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। রাসুল (স.)-এর অনুসরণ করলে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিই মেলে না, বরং পাওয়া যায় জীবনের সব ক্ষেত্রে হেদায়াত, গুনাহ মাফ এবং আখেরাতে প্রিয়নবীর পবিত্র হাত থেকে হাউজে কাউসারের পানি পান করার সৌভাগ্য।

আসুন, আমাদের প্রতিটি কথা, কাজ ও চিন্তা প্রিয়নবী (স.)-এর সুন্নাহর ছাঁচে ঢেলে সাজাই। তবেই আমাদের জীবন হবে সার্থক এবং নিশ্চিত হবে জান্নাতের চিরস্থায়ী ঠিকানা।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর