শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

দোয়া কুনুতের আগে তাকবির বলা কি জরুরি?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দোয়া কুনুতের আগে তাকবির বলা কি জরুরি?

ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি ইবাদতের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে, যা পালন করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য। হানাফি মাজহাবমতে, এশার নামাজের পর বিতির নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এই নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা মিলানোর পর ‘দোয়া কুনুত’ পাঠ করতে হয়। তবে দোয়া কুনুত পাঠের আগে অতিরিক্ত তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলা এবং হাত তোলার বিধান নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে অনেক সময় অস্পষ্টতা দেখা দেয়। এই প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাবসমূহের আলোকে এ বিষয়ে সঠিক সমাধান তুলে ধরা হলো।

১. তাকবিরের বিধান

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিতির নামাজের তৃতীয় রাকাতে কেরাত শেষ করার পর এবং দোয়া কুনুত পড়ার আগে ‘আল্লাহু আকবার’ বা তাকবির বলা ওয়াজিব। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াতে এই তাকবিরকে ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবিরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ঈদের তাকবির যেমন ওয়াজিব, তেমনি কুনুতের তাকবিরও ওয়াজিব।

২. হাত তোলার বিধান

তাকবির বলার সময় হাত কান পর্যন্ত উঠানো সুন্নত, তবে এটি ওয়াজিব নয়। যদি কোনো ব্যক্তি তাকবির (আল্লাহু আকবার) মুখে উচ্চারণ করেন কিন্তু হাত না উঠান, তবুও তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে এবং বিতির নামাজ সহিহ হবে। তবে হাত না উঠানোর কারণে তিনি সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।

আরও পড়ুন: দোয়া কুনুত না জানলে বিতিরে এই দোয়া পড়ুন


বিজ্ঞাপন


৩. তাকবির ছুটে গেলে করণীয়

যেহেতু এই তাকবিরটি ওয়াজিব, তাই এটি ছুটে গেলে নামাজের হুকুমে পরিবর্তন আসে। যদি কেউ ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে দোয়া কুনুতের পূর্বের তাকবির ছেড়ে দেয়, তবে তার ওপর সেজদা সাহু (ভুল সংশোধনের সেজদা) ওয়াজিব হবে। সেজদা সাহু আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
যদি সেজদা সাহু ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও তা আদায় না করা হয়, তবে ওই নামাজটি পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

৪. ইচ্ছাকৃতভাবে তাকবির ছেড়ে দেওয়া

যদি কোনো মুসল্লি ইচ্ছাকৃতভাবে এই তাকবির ছেড়ে দেন, তবে সেজদা সাহু দ্বারা এই ভুলের ক্ষতিপূরণ হবে না। এমতাবস্থায় তার ওপর ওই নামাজটি পুনরায় আদায় করা (ওয়াজিবুল ইয়াদা) আবশ্যক। কেননা ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব বর্জনে নামাজ মাকরুহে তাহরিমি হয় এবং মুসল্লি গুনাহগার হন।

আরও পড়ুন: বিতিরে দোয়া কুনুত পড়া কি জরুরি?

৫. নামাজ পুনরায় পড়ার সময়সীমা

ত্রুটিযুক্ত নামাজ পুনরায় পড়ার বিধানটি ওয়াক্ত বাকি থাকা পর্যন্ত ওয়াজিব। যদি নামাজের সময় শেষ হয়ে যায়, তবে পুনরায় পড়া আর ওয়াজিব থাকে না বরং মোস্তাহাব হয়। তবে ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব তরক করার গুনাহ থেকে তওবা করা আবশ্যক।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, বিতির নামাজে দোয়া কুনুতের পূর্বে তাকবির বলা একটি গুরত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল। হাত তোলা সুন্নত হলেও মুখে তাকবির বলা অপরিহার্য। ভুলবশত এই তাকবির ছুটে গেলে সেজদা সাহুর মাধ্যমে নামাজ শুদ্ধ করে নিতে হবে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে সেই নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল ইবাদত সঠিকভাবে এবং সুন্নাহ তরিকায় আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

(ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২৮; আদ-দুররুল মুখতার: ১/৪৫৬; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৭, ২৪৮ ও ৪৪০)

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর