সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ

আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং সমগ্র বিশ্বজগতের সর্বময় ক্ষমতার প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। প্রকৃত রাজত্ব, বাদশাহি, কর্তৃত্ব ও সম্মান কেবল তাঁরই হাতে ন্যস্ত। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ যে ক্ষমতা, নেতৃত্ব বা শাসনের সুযোগ পায়, তা কোনো স্থায়ী অধিকার নয়; বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি সাময়িক আমানত ও কঠিন পরীক্ষা।

পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে- ক্ষমতা মানুষের যোগ্যতা বা শক্তির চূড়ান্ত ফল নয়; বরং আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দান করেন এবং যার থেকে চান তা ছিনিয়ে নেন।


বিজ্ঞাপন


সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর

সমগ্র সৃষ্টিজগতের ওপর মহান আল্লাহর কর্তৃত্ব ও মালিকানা অখণ্ড ও প্রশ্নাতীত। তিনি ইরশাদ করেন- ‘আসমানসমূহ ও জমিন এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর রাজত্ব আল্লাহরই। আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা মায়েদা: ১২০)

অর্থাৎ অণু-পরমাণু থেকে শুরু করে গ্রহ-নক্ষত্র, মানুষ ও জ্বিন সবই তাঁর হুকুমের অধীন। মানুষের শাসনক্ষমতা এই বিশাল রাজত্বের তুলনায় কেবল একটি ক্ষুদ্র ও সাময়িক অংশমাত্র।

আরও পড়ুন: জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদা


বিজ্ঞাপন


ক্ষমতা দান ও ছিনিয়ে নেওয়ার একমাত্র মালিক

ক্ষমতা ও রাজত্বের উত্থান-পতন সম্পর্কে কোরআনের এক শাশ্বত ঘোষণা রয়েছে সূরা আলে ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতে- ‘বলুন, হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক। আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন। আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন এবং যাকে চান অপমানিত করেন। সমস্ত কল্যাণ আপনার হাতেই। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা আলে ইমরান: ২৬)

এই আয়াত ক্ষমতার মোহে আক্রান্ত মানুষের জন্য এক গভীর শিক্ষা। এতে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে- ক্ষমতার উত্থান বা পতন কোনো দৈব ঘটনা নয়; বরং তা মহান আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালারই বহিঃপ্রকাশ।

ক্ষমতা একটি পরীক্ষা, গর্বের বিষয় নয়

আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাকে মানুষের জন্য পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন- ‘তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বকারী করেছেন এবং একে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন, যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার মাধ্যমে।’ (সুরা আনআম: ১৬৫)

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে কিছুদিনের জন্য ক্ষমতা পেয়ে অনেকে দাম্ভিক হয়ে ওঠে, নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করে এবং জুলুম-নির্যাতনে লিপ্ত হয়। তারা ভুলে যায়- এই ক্ষমতা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সুযোগমাত্র। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কোনো শাসক সীমালঙ্ঘন করেছে, আল্লাহ তাআলা তার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তাকে লাঞ্ছিত করেছেন।

আরও পড়ুন: মানবজাতির কল্যাণে ক্ষমতার পালাবদল হয়

জালিমদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি

অনেক সময় জালিমরা মনে করে, তারা বুঝি পার পেয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে মোটেই গাফেল নন। তিনি কোরআনে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন- ‘আর জালিমরা যা করছে, আল্লাহকে আপনি সে বিষয়ে মোটেই গাফেল মনে করবেন না। তিনি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছেন সেই দিনের জন্য, যেদিন চোখ পলকহীন হয়ে যাবে। তারা মাথা তুলে দৌড়াতে থাকবে, তাদের দৃষ্টি তাদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪২–৪৩)

দুনিয়ায় শাস্তি বিলম্বিত হওয়া মানে মুক্তি নয়; বরং তা আখেরাতের ভয়াবহ হিসাবের পূর্বাভাস।

ক্ষমতা ও নেতৃত্ব: এক কঠিন দায়বদ্ধতা

ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষমতা কোনো ভোগবিলাসের মাধ্যম নয়; বরং এটি একটি গুরুভার দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘ন্যায়পরায়ণ শাসকেরা মহান আল্লাহর কাছে নূরের মিম্বারে অবস্থান করবে, যারা নিজেদের পরিবার-পরিজন ও অধীনদের মাঝে ন্যায়-ইনসাফ ও সততার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করে।’ (মুসলিম, হাদিস, ৪৮২৫)

এদিকে ক্ষমতার লোভ সম্পর্কে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন- ‘তুমি নেতৃত্ব চেয়ো না। কারণ তুমি যদি তা চাওয়ার মাধ্যমে পাও, তবে তার দায়িত্ব তোমার ওপর ন্যস্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭১৪৬)

আর প্রকৃত শক্তির উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন- ‘সমস্ত মানুষ যদি একত্রিত হয়ে তোমার উপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তার বাইরে তারা কিছুই করতে পারবে না; আর তারা যদি ক্ষতি করতে চায়, তবুও আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে কিছুই করতে পারবে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৫১৬)

পরিশেষে বলা যায়, ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। দুনিয়ার নশ্বর ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই। একজন সচেতন মুমিনের কর্তব্য হলো- ক্ষমতা পেলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, ইনসাফ কায়েম করা এবং জুলুম থেকে নিজেকে সংযত রাখা। কারণ কেয়ামতের দিন প্রতিটি ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে মহান রবের দরবারে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর