বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মানবজাতির কল্যাণে ক্ষমতার পালাবদল হয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মানবজাতির কল্যাণে ক্ষমতার পালাবদল হয়

মহান সৃষ্টিকর্তাই সব সৃষ্টির নিয়ন্তা। তাঁর হুকুমে সবকিছু পরিচালিত হয়। তিনি ক্ষমতা দেন, আবার ছিনিয়েও নেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, হে আল্লাহ, বিশ্বজাহানের মালিক, তুমি যাকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে চাও রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নাও। যাকে চাও মর্যাদা দান করো এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত করো। কল্যাণ তোমার হাতেই নিহিত। নিঃসন্দেহে তুমি সব বিষয়ে শক্তিশালী।’ (সুরা আলে ইমরান: ২৬)

শাসকগোষ্ঠী যখন আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করতে না পারে অথবা অত্যাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আল্লাহ মানবজাতির স্বার্থে ক্ষমতার পালাবদল ঘটান। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিস্টান সংসারবিরাগীদের উপাসনাস্থান, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো—যেখানে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম।’ (সুরা হজ: ৪০)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: শাসক, পদ-পদবি সম্পর্কে ইসলামি নির্দেশনা

রাষ্ট্রক্ষমতা আল্লাহর অনুগ্রহ। তবে, তা চিরস্থায়ী নয়। তাই ক্ষমতা লাভের পর দায়িত্ব হলো সুবিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সে প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষের মধ্যে এই দিনগুলোর পর্যায়ক্রমে আমি আবর্তন ঘটাই, যাতে আল্লাহ মুমিনদের জানতে পারেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৪০)

আরও পড়ুন: দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার দোয়া

অতএব, ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার তথা ভারসাম্য, ন্যায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। অন্যথায়, দুনিয়া ও আখেরাতে এর কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ন্যায়পরায়ণ শাসক তথা ক্ষমতার যথার্থ ব্যবহারকারী কেয়ামতের দিন আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় এবং সর্বাাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হবেন। আর অত্যাচারী শাসক আল্লাহর কাছে সর্বাধিক ঘৃণিত ও সর্বাধিক শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। অধিকন্তু সে আল্লাহর দরবার থেকেও বহু দূরে অবস্থান করবে। (তিরমিজি: ১৩৭৯)


বিজ্ঞাপন


আল্লাহ তাআলা আমাদের ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের অধীনে বসবাস করার সুযোগ দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর