সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অপবিত্র তোশক ও কম্বল পবিত্র করার শরয়ি বিধান

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

অপবিত্র তোশক ও কম্বল পবিত্র করার শরয়ি বিধান

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানার তোশক, জাজিম, লেপ কিংবা কম্বল অপবিত্র হয়ে যেতে পারে। স্বপ্নদোষ, সহবাসে অসতর্কতা অথবা শিশুদের প্রস্রাব- পায়খানা লাগার কারণে ভারী এসব আসবাবে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অথচ নামাজসহ সব ইবাদতের জন্য শরীর, পোশাক ও নামাজের স্থান পবিত্র থাকা শরিয়তের মৌলিক শর্ত। তাই এ ধরনের আসবাব পবিত্র করার সঠিক শরয়ি বিধান জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।

বীর্য লাগলে পবিত্র করার বিধান

কাপড় বা বিছানায় বীর্য লাগলে তা পবিত্র করার বিষয়ে হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বীর্য ভেজা না শুকনো—এই অবস্থার ওপর পবিত্র করার পদ্ধতি নির্ভর করে।

হজরত সুলাইমান বিন ইয়াসার (রহ.) বলেন, আমি হজরত আয়েশা (রা.)-কে বীর্য লাগা কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাপড়ে লাগা বীর্য ধুয়ে ফেলতাম। এরপর তিনি সেই কাপড় পরেই নামাজের জন্য বের হতেন, যদিও তাতে পানির চিহ্ন থাকত।’ (সহিহ বুখারি: ২২৯, ২৩১)

ফিকহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বীর্য ভেজা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর বীর্য শুকিয়ে গেলে খুঁটিয়ে বা ঘষে তুলে ফেললেই কাপড় বা বিছানা পবিত্র হয়ে যাবে। হজরত ওমর (রা.) বলেন- ‘বীর্য ভেজা হলে ধুয়ে ফেলো, আর শুকনো হলে খুঁটিয়ে ফেলো।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯৩৩)

বীর্য শুকিয়ে গেলে সেই বিছানা ধোয়া ছাড়াও সেখানে ঘুমানো জায়েজ। এতে শরীর বা কাপড় নাপাক হয় না। তবে পবিত্র বিছানায় ঘুমানো রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও উত্তম আদর্শ।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: সহবাস করলে পোশাক কি নাপাক হয়?

যেসব কারণে কাপড় ধৌত করা আবশ্যক

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘পাঁচটি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়- পায়খানা, প্রস্রাব, বমি, রক্ত ও বীর্য।’ (সুনানে দারাকুতনি: ৪৫৮)

এই হাদিসের আলোকে ফিকহবিদরা একমত যে, এসব নাপাকি লাগলে তা শরিয়তসম্মতভাবে দূর করা আবশ্যক।

তোশক বা কম্বলের আংশিক নাপাকির বিধান

  • যদি পুরো তোশক বা কম্বল নয়, বরং কেবল একটি অংশ নাপাক হয়, তাহলে পুরোটা ধোয়া আবশ্যক নয়।
  • তোশক বা কম্বলের যে অংশটি পবিত্র, সেখানে নামাজ আদায় করা জায়েজ।
  • ভারী তোশক বা জাজিমের এক পিঠে নাপাকি লাগলে অপর পিঠে যদি নাপাকির রং, গন্ধ বা আর্দ্রতা প্রকাশ না পায়, তবে পরিষ্কার পিঠে নামাজ পড়া বৈধ।

আরও পড়ুন: শীতকালে অজু-গোসল: জানুন ৫টি জরুরি বিষয়

ভারী ও ধোয়া কঠিন আসবাবের শরয়ি সমাধান

যেসব তোশক, জাজিম বা আসবাব ধোয়া অত্যন্ত কঠিন বা প্রায় অসম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে শরিয়ত সহজ ও বাস্তবসম্মত বিধান দিয়েছে-

১. বিকল্প ব্যবস্থায় ব্যবহার: নাপাকি শুকিয়ে যাওয়ার পর তার ওপর পবিত্র কাপড় বা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে।

২. উপরের আবরণে নাপাকি লাগলে: প্রস্রাব বা পায়খানা যদি কেবল তোশকের কভারে লেগে থাকে এবং ভেতরে প্রবেশ না করে, তবে ঘষে তুলে ফেলা অথবা তিনবার পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে তা পবিত্র করা যাবে।

৩. ভেতরে নাপাকি শোষিত হলে: নাপাকি যদি তোশকের ভেতরে শোষিত হয়, তাহলে আক্রান্ত স্থানে তিনবার ধৌত করতে হবে এবং প্রতিবার ধোয়ার পর তা সম্পূর্ণ শুকাতে হবে। এখানে ‘শুকানো’ বলতে বোঝায়- হাত রাখলে যেন ভেজাভাব অনুভূত না হয়।

সতর্কতা: নাপাক তোশক বা কম্বল ধোয়ার সময় ব্যবহৃত পানি যদি শরীর বা অন্য কাপড়ে লাগে, তাহলে সেগুলোকেও নাপাক গণ্য করা হবে। তাই পরিষ্কার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

তথ্যসূত্র: ফতোয়ায়ে শামি: ১/৩৩২; আস-সিআয়া: ২/৫৯; তাতারখানিয়া: ২/৩০; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৬২; রাদ্দুল মুহতার: ১/৪০২; হালবাতুল মুজাল্লি: ১/৫৭১

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর