কোরআন-হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই একটি জ্বিন বা শয়তান নিযুক্ত থাকে, যাকে ‘কারিন’ বলা হয়। এটি মানুষকে পাপ ও পথভ্রষ্টতার দিকে প্ররোচিত করে। এই লেখায় কারিন জ্বিনের প্রকৃতি, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর থেকে বাঁচার ইসলামি পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
কারিন জ্বিনের অস্তিত্ব ও প্রভাব
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই একটি কারিন জ্বিন (জ্বিন সঙ্গী) নিযুক্ত করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসুল! আপনার সঙ্গেও কি? তিনি উত্তর দিলেন- হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও। তবে তার মোকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কখনো অন্যকিছুর নির্দেশ দেয় না।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮১৪)
অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সঙ্গে সহচর জ্বিন ও সহচর ফেরেশতা নিযুক্ত হয়নি।’ (মেশকাত: ৬৭)
এই জ্বিন মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে, অনৈতিক বা খারাপ কাজের প্ররোচনা দেয় এবং ভালো কাজ থেকে বিরত রাখে। এটি সরাসরি জীবনের ক্ষতি করতে পারে না, তবে তার ধারাবাহিক প্ররোচনায় চরিত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। আল্লাহর আশ্রয় ও নিয়মিত দোয়া ছাড়া মানুষ এর থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না।
বিজ্ঞাপন
কেয়ামতের দিন কারিন জ্বিনের ভূমিকা
আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারিন জ্বিন সম্পর্কে বলেন- ‘তার সঙ্গী শয়তান বলবে- হে আমাদের রব! আমি তাকে পথভ্রষ্ট করিনি, বরং সে নিজেই ছিল গভীর পথভ্রষ্টতায়। আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা আমার কাছে বাক-বিতণ্ডা করো না; আমি আগেই সতর্ক করেছি।’ (সুরা কাফ: ২৭-২৮)
কারিন জ্বিন থেকে সুরক্ষার আমল
১. কোরআনের বিশেষ সুরাসমূহ: সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসি এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা।
২. বিশেষ দোয়া: এই দোয়া নিয়মিত পড়ুন- رَّبِّ اَعُوۡذُ بِكَ مِنۡ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ وَاَعُوۡذُ بِكَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ ‘রাব্বি আউজুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিন, ওয়া আউজুবিকা রাব্বি আই ইয়াহদুরুন।’ অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার প্রভু! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুরা মুমিনুন: ৯৭-৯৮)
৩. দৈনন্দিন কাজের দোয়া: ঘর থেকে বের হওয়া, প্রবেশ করা, খাবার শুরু ও শেষ করা, বাথরুমে যাওয়া-আসা, পোশাক পরা সহ সকল কাজে রাসুল (স.)-এর শেখানো দোয়গুলো পাঠ করা।
আরও পড়ুন: যে কাঠের ঘ্রাণে জিন পালায়
সতর্কতা ও ভুল ধারণা
কারিন জ্বিন শুধু কুমন্ত্রণা দিতে সক্ষম, সরাসরি ক্ষতি করতে পারে না। মানুষের মৃত্যুর পর কারিন জ্বিন মৃত ব্যক্তির রূপ ধারণ করে- এ ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারিন জ্বিনের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা, নিয়মিত জিকির-আজকার এবং দৈনন্দিন জীবনে সুন্নত মেনে চলা বাঞ্ছণীয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন এবং ঈমানের সঙ্গে জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

