মুসলমানের জীবনে হালাল উপার্জন জরুরি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা, আহার করো আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে এবং আল্লাহর জন্য শোকর করো, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)
অন্যদিকে হারাম উপার্জনকে আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। অবৈধ পথে উপার্জন মানুষের দুনিয়া-আখিরাত দুটোই ধ্বংস করে দেয়। কোরআন-হাদিসে হারাম সম্পদের যে ভয়াবহ শাস্তির কথা এসেছে, তা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বড় সতর্কতা। নিচে হারাম উপার্জনের ৭টি বড় শাস্তি তুলে ধরা হলো—
বিজ্ঞাপন
১. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অসন্তুষ্টি
হারাম উপার্জনকারীদের ওপর আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হয়ে যান। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না কেয়ামতের দিন। আর তাদের পরিশুদ্ধও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।’ (সুরা আলে ইমরান: ৭৭)
২. নবীজির অভিশাপ
হারাম উপার্জনের অন্যতম শীর্ষ পাপ সুদ। রাসুলুল্লাহ (স.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদ্বয়ের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন এরা সবাই সমান অপরাধী। (মুসলিম: ৩৯৮৫) আরও ইরশাদ হয়েছে- ‘ঘুষদাতা ও গ্রহীতার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।’ (ইবনে মাজাহ: ২৩১৩)
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ১০ ব্যক্তির ওপর নবীজির অভিশাপ
৩. হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না
রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে বলেন- তার খাদ্য ও পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, তার জীবন-জীবিকাও হারাম—এ অবস্থায় তার দোয়া কিভাবে কবুল হতে পারে? (তিরমিজি: ২৯৮৯)
৪. উপার্জনে বরকত থাকে না
কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন আর দান-সদকা বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭৬)
তাফসিরবিদরা বলেন, হারাম উপার্জনে বরকত থাকে না, বরং তা ধ্বংস ডেকে আনে।
৫. কবরের শাস্তির উপযুক্ত
হাদিসে এসেছে- সুদখোরকে স্বপ্নে একটি রক্তের নদীতে শাস্তি ভোগ করতে দেখা হয়। তিনি বারবার উঠতে চাইলে নদীর তীরের ব্যক্তি তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করে তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। (বুখারি: ২০৮৫)
আরও পড়ুন: অধিকাংশ কবর আজাব হয় যে কারণে
৬. দান-সদকা কবুল হয় না
রাসুল (স.) বলেছেন- ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করেন না এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সদকা গ্রহণ করেন না।’ (নাসায়ি: ১৩৯)
৭. আল্লাহর যুদ্ধ ঘোষণা
হারাম উপার্জনকারীদের উদ্দেশে কোরআনে কঠিন সতর্কতা- ‘যদি তোমরা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও…।’ (সুরা বাকারা: ২৭৮-২৭৯)
হারাম উপার্জন সাময়িক সুখ দিতে পারে, কিন্তু এর পরিণাম ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী। দোয়া বন্ধ হয়ে যায়, বরকত উঠে যায়, কবর-আখেরাতের শাস্তি অপেক্ষা করে এবং সবচেয়ে বড় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অসন্তুষ্টি অর্জিত হয়। এ জন্যই প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য- হারাম থেকে দূরে থাকা এবং হালাল উপার্জনের প্রতি অটল থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক ও বরকতময় জীবনের তাওফিক দিন। আমিন।

