আল্লাহ তাআলা অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করে ফেললেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই তিনি সব গুনাহ ক্ষমা করেন।’ (সুরা জুমার: ৫৩)
তবে সব তাওবা কবুল হয় না। কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু লক্ষণের কথা এসেছে, যেগুলোর উপস্থিতি তাওবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। নিচে সেই তিনটি লক্ষণ তুলে ধরা হলো-
১. তাওবার পরও গুনাহে ফিরে যাওয়া
তাওবার অন্যতম শর্ত হলো গুনাহ ত্যাগ করা এবং পুনরায় তাতে না ফেরা। যদি কেউ মুখে তাওবা করে, কিন্তু আবার গুনাহে ফিরে যায়, তা কবুল হয় না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে, এরপর তাদের কুফরি বেড়েই চলেছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯০) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন লোকেদের তাওবা নিস্ফল যারা গুনাহ করতেই থাকে...।’ (সুরা নিসা: ১৮)
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, ‘তাওবা তখনই সঠিক, যখন বান্দা গুনাহকে এমনভাবে ঘৃণা করে, যেমনভাবে সে আগুনকে ঘৃণা করে।’
আরও পড়ুন: তাওবার পর আবারও গুনাহ হয়ে গেলে করণীয়
২. তাওবা দেরিতে করা: মৃত্যুর সময় বা কেয়ামতের আলামত দেখা দিলে
তাওবা কবুল হওয়ার সময়সীমাও নির্দিষ্ট। মৃত্যুর আগমুহূর্তে বা সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠলে তাওবা আর গ্রহণযোগ্য থাকে না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘এমন লোকেদের তাওবা নিস্ফল যারা গুনাহ করতেই থাকে, অতঃপর মৃত্যুর মুখোমুখী হলে বলে- আমি এখন তাওবা করছি।’ (সুরা নিসা: ১৮)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আল্লাহ রাতের বেলা তাঁর হাত প্রসারিত রাখেন, যাতে দিনের পাপি তাওবা করতে পারে; আর দিনের বেলা হাত প্রসারিত রাখেন, যাতে রাতের পাপি তাওবা করতে পারে; এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।’ (মুসলিম, মেশকাত: ২৩২৯)
৩️. তাওবা কেবল মুখে, কিন্তু হৃদয়ে অনুতাপ নেই
তাওবা শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; হৃদয়ের গভীর অনুতাপই আসল তাওবা। অনুতাপবিহীন তাওবা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, النَّدَمُ تَوْبَةٌ ‘অনুতাপই হলো তাওবা।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ৪২৫২)
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অনুতাপ ছাড়া তাওবা করে, তার তাওবা কেবল মুখের কথা; আল্লাহর নিকট তার কোনো মূল্য নেই।’
আরও পড়ুন: বান্দার তাওবায় আল্লাহ যেরকম খুশি হন
তাওবা কবুলের পথ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মানুষ মাত্রই গুনাহগার (অপরাধী)। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (তিরমিজি: ২৪৯৯)
তাওবা কবুলের ৩টি মৌলিক শর্ত:
১. গুনাহ ত্যাগ করা
২. আন্তরিক অনুতপ্ত হওয়া
৩. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প
বান্দার হক থাকলে হক আদায় করা বা ক্ষমা চাওয়াও তাওবা কবুলের শর্ত।
তাওবা আল্লাহর এক মহান নেয়ামত, যা বান্দার মুক্তির পথ খুলে দেয়। কিন্তু তা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন গুনাহ ত্যাগ, আন্তরিক অনুতাপ ও ভবিষ্যতে না করার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়। মুখের তাওবার কোনো মূল্য নেই যদি অন্তরে পরিবর্তন না আসে। তাই দেরি না করে আজই আন্তরিকভাবে তাওবা করি, গুনাহের অন্ধকার থেকে ফিরে আসি আল্লাহর নূরের পথে।




